মিসরে অনুসন্ধানী ও তথ্য যাচাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাতসাদ্দাশের ছয় সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের হয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে সংগঠনটির সঙ্গে কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মিসরভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাতসাদ্দাশ ২০১৮ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। মানবাধিকার সংগঠন মিসরীয় ইনিশিয়েটিভ ফর পারসোনাল রাইটস (ইআইপিআর) জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ছয় সাংবাদিকই প্রতিষ্ঠানটির পুরো নিউজরুমের সদস্য। সংগঠনটি সাংবাদিকদের আইনি সহায়তাও দিচ্ছে।
ইআইপিআর জানায়, সোমবার সন্ধ্যা থেকে সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের বাড়িতে অভিযান চালাতে শুরু করেন। এ সময় তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারের তথ্য জানিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, মাতসাদ্দাশ বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং সন্ত্রাসী মুসলিম ব্রাদারহুডের গণমাধ্যম কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করছে। এ কাজে দেশের ভেতরে থাকা ব্রাদারহুডের কিছু সদস্যও সহায়তা করছে বলে দাবি করা হয়।
তবে মাতসাদ্দাশ এক বিবৃতিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল তথ্য সংশোধন করে তারা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে মিসর। একই বছর সেনাবাহিনী দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। মুরসি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
মিসরে মিথ্যা সংবাদ ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের প্রায়ই গ্রেফতার করা হয়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোও দেশটির কঠোর পরিবেশে কাজ করতে নানা সমস্যার মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিসরে ১৯ জন সাংবাদিক আটক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা মিসরের স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।