তুরস্কে সিরিয়া সরকার ও হিজবুল্লাহর গোপন বৈঠক

সিরিয়া সরকার ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে তুরস্কে গোপনে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকটি ছিল দীর্ঘদিনের বিরোধী দুইপক্ষের মধ্যে প্রথম জানা সরাসরি বৈঠক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছয়টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত মাসে কমপক্ষে একবার সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বৈঠক হয়। সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুই সিরীয় কর্মকর্তা, একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একজন জ্যেষ্ঠ লেবানিজ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ বিষয়ক অধিদফতর রয়টার্সের প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তুরস্কে সিরিয়া সরকার ও হিজবুল্লাহ কর্মকর্তাদের বৈঠকের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সিরিয়া সরকারের ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টেও এমন কোনও বৈঠকের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছে, এসব তথ্য মিথ্যা।

রয়টার্সের ছয় সূত্রের দাবি, তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার আমন্ত্রণে গত মাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের লক্ষ্য ছিল দুইপক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা কমানো।

মার্কিন কর্মকর্তা, সিরীয় কর্মকর্তা ও লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, বৈঠকটি ভালো হয়েছে এবং দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার বিভিন্ন বিষয় সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এক সিরীয় কর্মকর্তা জানান, উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে তাদের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই। সিরিয়া হিজবুল্লাহকে আশ্বস্ত করেছে লেবাননে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করতে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে না।

এর বিনিময়ে সিরীয় কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে সীমান্তপথে অস্ত্রপাচারের চেষ্টা বন্ধ এবং সিরিয়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে থাকা গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট স্লিপার সেল ভেঙে দিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সিরিয়া জানিয়েছিল, দক্ষিণ সিরিয়ায় রকেট হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হিজবুল্লাহর একটি সেল আটক করা হয়েছে। তবে বুধবার হিজবুল্লাহ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের কোনও উপস্থিতিই নেই এবং দেশটিতে কোনও নিরাপত্তা বা সামরিক কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িত নয়। সিরীয় ওই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্র পাচার বন্ধ ও সিরিয়ায় থাকা সেলগুলো ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তবে তারা সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্রটি জানায়, নিরাপত্তা ইস্যুতে দুইপক্ষ অনেক অগ্রগতি করেছে। তার ভাষ্য, হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে চায় এবং লেবাননের ভেতরে সিরিয়ার হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে দুইপক্ষের মধ্যে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি এবং বৈঠক নিয়ে কোনও ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল না বলে জানান সিরীয় কর্মকর্তা ও লেবানিজ সূত্রটি।