যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘাঁটিটি ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার তদন্ত করছে সন্ত্রাসদমন পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়, ঘাঁটিটি থেকে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান। রবিবার ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ বোমারু বিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে বলে ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের কোনও কারণ জানায়নি। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক করার ঘটনার পরই এ সিদ্ধান্ত এলো। হোয়াইটহলের সূত্রগুলো এ সিদ্ধান্ত যে ওই ঘটনার জের, তা অস্বীকার করেনি। বিবিসিকে বলা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক নয়, সামরিক সিদ্ধান্ত। অপারেশনাল পর্যায়ে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তার ব্রিটিশ প্রতিপক্ষকে জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
গ্লাসেস্টারশায়ারের ঘাঁটিটির দিকে যানবাহন যাচ্ছে বলে খবর পাওয়ার পর ভোররাতে প্রথমে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই লন্ডনের বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে এবং পরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতির সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ একে অভিজ্ঞতা ও কৌশলের ভিত্তিতে নেওয়া তদন্তগত সিদ্ধান্ত’ বলে বর্ণনা করে তাদের জামিনে মুক্তি দেয়।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী ষষ্ঠ একজনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যুক্তরাজ্য-ইরান দ্বৈত নাগরিক। শনিবার সন্ত্রাসদমন পুলিশ নিশ্চিত করে, তাঁকেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার কয়েক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, এতে ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তেহরান কোনও সম্পৃক্ততার কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে।
ষষ্ঠ ব্যক্তির গ্রেফতারের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেন, ঘটনাটিতে ‘স্পষ্টতই একটি বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে’। অনুষ্ঠানে কী বলা যাবে, তা নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি আর কিছু বলেননি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ায় তিনি ‘বিস্মিত’। তার ভাষ্য, আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি, আমরা তাদের ছাড়তাম না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।
কয়েক দশক ধরে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) অগ্রবর্তী অপারেশনাল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য মার্কিন অনুরোধে যুক্তরাজ্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান উড়েছে। জুলাইয়ে ইরান বলেছিল, ইরানি ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনও ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’।