যুদ্ধ ফের শুরু হলেও ইরানের অবস্থানে পরিবর্তন হবে না

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ শুরু হলেও দেশটির অবস্থান বদলাবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রবিবার (২৫ অক্টোবর) তিনি এ কথা বলেন। তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকি বাড়ার মধ্যে এ মন্তব্য এলো। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন আরেকটি ছোট ‘এপিক ফিউরি’ করতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানকে তিনি এ নামে উল্লেখ করেন।

তেহরানে টিভিতে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি নতুন যুদ্ধের কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু আমি ইতিমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের কথা ভাবছি। যুদ্ধ হোক বা না হোক, আমাদের নীতি একই থাকবে। তিনি আরও বলেন, তারা ইতিমধ্যে দুবার তা করে দেখেছে এবং ফল দেখেছে। আবার চেষ্টা করতে চাইলে তারা জানে, অতীতের চেয়ে ভিন্ন কোনও ফল তারা পাবে না।

৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সবচেয়ে তীব্র লড়াই থামিয়ে দেয়। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে গোলাগুলি চললেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমে এসেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে তেহরান। অনুমোদন ছাড়া প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারী জাহাজকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করছে তারা। ওয়াশিংটন ও অঞ্চলের দেশগুলো এ পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে।

জবাবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনে সংঘাতের স্থায়ী নিষ্পত্তির রূপরেখা সংবলিত একটি সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয় ইরান। পরে দুই পক্ষ পরস্পরকে লঙ্ঘনের অভিযোগ করলে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে।

তখন থেকে তেহরান সংঘাতের অবসানে চুক্তিতে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আসছে। আরাঘচি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে নতুন বাস্তবতা শিকড় গাড়ছে। হরমুজ প্রণালির নৌপথ আর আগের মতো থাকবে না, প্রণালির ব্যবস্থাপনাও আর আগের মতো থাকবে না। তিনি আরও বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে আমাদের অঞ্চলকে বিদেশি বাহিনী না রাখার দিকে এগোতে হবে।