ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতে মিসরকে আরও সরাসরি জড়িয়ে ফেলতে পারে, এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। সোমবার সৌদি আরবকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পার্লামেন্ট। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লড়ছে। তাদের অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার ও মিসরের সুয়েজ খালের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও হুমকিতে ফেলছে। রিয়াদ সহায়তা চাইলে উপসাগরীয় আরব মিত্র ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশটিকে সামরিক সহায়তা দিতে পার্লামেন্টের অনুমোদন চেয়েছিলেন সিসি।
পার্লামেন্টের এক সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, কক্ষের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। পার্লামেন্ট রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে ভোট নিয়েছে এবং ভোটের হিসাব প্রকাশ করেনি। মিসরীয় সেনা পাঠানোর জন্য সৌদি আরবের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধের কথাও জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে মিসর কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান তাহের আল-খৌলি রয়টার্সকে বলেন, দুই দেশের সমন্বয়ে এবং সৌদি আরবের অনুরোধে মিসর সেখানে সেনা পাঠাবে।
বেশ কয়েকটি বিরোধী গোষ্ঠী এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কিংবা সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর জোট সিভিল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আঞ্চলিক যুদ্ধে মিসরের সামরিক সম্পৃক্ততা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত সপ্তাহে তারা বলেছে, কায়রোর ভূমিকা হওয়া উচিত মধ্যস্থতাকেন্দ্রিক।
মিসরীয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি জানিয়েছে, তাদের আইনপ্রণেতারা ভোটদানে বিরত থাকবেন। অভিযানের লক্ষ্য, মেয়াদ ও ব্যয় নিয়ে তথ্যের অভাবের কথা তারা উল্লেখ করেছে। তবে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের কথাও জানিয়েছে দলটি।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলার নিন্দা মিসর বারবার জানিয়েছে। তবে দেশটি প্রকাশ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের স্বাক্ষর করা মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও মিসর যোগ দেয়নি। এ মাসের শুরুতে রিয়াদে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবে সেনা ও সামরিক সক্ষমতার দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করতে তারা একমত হন। গত সপ্তাহে পাকিস্তান চুক্তিটি অনুমোদন করেছে এবং তুরস্কের পার্লামেন্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সংঘাত প্রশমনের চেষ্টায় সোমবার মক্কা চুক্তিভুক্ত তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। গত সপ্তাহে ব্রিটেন জানিয়েছে, হুথিদের আকাশপথে হামলা থেকে সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় তারা রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে।