৩৫ বছর পর শেষ হলো পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন

নিরাপত্তা পরিষদ মেয়াদ নবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে জাতিসংঘের ৩৫ বছরের শান্তিরক্ষা মিশনের সমাপ্তি ঘটছে। রবিবার জাতিসংঘ মহাসচিব এ কথা জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

পশ্চিম সাহারাকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা মরক্কো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আলজেরিয়া-সমর্থিত পলিসারিও ফ্রন্ট, যারা মরক্কোর বিরোধী, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি স্পেন ১৯৭৬ সালে চলে যাওয়ার পর থেকে পশ্চিম সাহারায় স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে আসছে পলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর থেকে সেখানে মিনুরসো নামে একটি শান্তিরক্ষা মিশন ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ১ নভেম্বর থেকে মিশনের অবসায়ন পর্ব শুরু হয়। এ সময় মিশনের সম্পদ সেনা অবদানকারী দেশগুলোতে ফেরত পাঠানো হবে।

শান্তিরক্ষা মিশনের সমাপ্তি এলো এমন সময়, যখন এক বছর আগে নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া করা একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। ওই প্রস্তাবে মরক্কোর সার্বভৌমত্বের অধীনে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার রাবাতের পরিকল্পনাকে সংঘাত নিরসনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

গত বছরের ভোটে ভোটদানে বিরত থাকা রাশিয়া এ বছর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরেকটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। ওই প্রস্তাবে মরক্কোর পরিকল্পনার প্রতি জাতিসংঘের পছন্দ পাকাপোক্ত করার পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনী ছোট করার কথা ছিল। এরপর রাশিয়ার একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ হয়। ফলে নতুন কোনও ম্যান্ডেট ছাড়াই মিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের দায়িত্বও ছিল মিনুরসোর। ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই গণভোট কখনও হয়নি।

মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, মিশনের নামে গণভোটের উল্লেখ, অর্থাৎ নামের আর অংশ, একটি কালানুক্রমিক অসংগতি। তিনি জানান, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাব আটকে দেবে, রাবাতকে তা আগেই জানানো হয়েছিল। তবে তিনি একে খেলার কিছু নিয়ম পর্যালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।

মরক্কোর রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, মিশনের মেয়াদ নবায়ন না হওয়া পশ্চিম সাহারা প্রসঙ্গটি নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনা থেকে সরিয়ে আনার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

শনিবার আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়াদ নবায়ন না হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে। মরক্কোর অবস্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত পক্ষপাতকে তারা এর জন্য দায়ী করেছে।