দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল সফরের আগে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ বিলিয়ন (১ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিবহন অবকাঠামোকে সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, কোরীয় যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে দুই দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে রূপান্তর করা উচিত। আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এরদোয়ান দক্ষিণ কোরিয়াকে তুরস্কের প্রস্তাবিত সিনোপ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। কেপকোর সঙ্গে সম্ভাব্যতার প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পটির বিনিয়োগ মডেল, কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাণিজ্যের অসমতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৫ সালে তুরস্ক দক্ষিণ কোরিয়ায় ১.১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করলেও আমদানির পরিমাণ ছিল ১০.২৬ বিলিয়ন ডলার। এই বৈষম্য কমিয়ে টেকসই বাণিজ্য নিশ্চিত করতে অটোমোবাইল, ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা ও গাজা পুনর্নির্মাণে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান প্রতিরক্ষা খাতে ড্রোন ও ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এরদোয়ান জানান, তুর্কি ড্রোনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহ তাদের তুর্কি প্রকৌশলীদের অগ্রগতির স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধবিরতি হলেও ফিলিস্তিনিদের জীবন স্বাভাবিক হয়নি। ত্রাণ সরবরাহের বাধা দূর করে হাসপাতাল, স্কুল ও বাড়িঘর দ্রুত পুনর্নির্মাণের তাগিদ দেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের গাজা সংক্রান্ত বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ত্রাণ ও অবকাঠামো নির্মাণে তুরস্কের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও অর্থায়ন একত্রে গাজা পুনর্নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে এমন কোনও পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, মক্কা চুক্তি এগিয়ে নিতে কাজ করছে আঙ্কারা। ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিবহন করিডোর গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। যার মধ্যে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ের পুনরুজ্জীবন, ক্যাস্পিয়ান সাগর অতিক্রমকারী মিডল করিডোর এবং ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও পোর্টকে তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত করা ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রজেক্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পে কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগ ও কাজের আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড