যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এক বড় ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সাত দিনের মেয়াদ কমিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ ইরানের সদিচ্ছারই আরেক প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, আমরা আগেই বলেছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। কেবল তখনই আমরা পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারি।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে তেহরান। যুদ্ধ অবসানের জন্য তারা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই হরমুজে চলাচলের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্মত নতুন রুটটি গ্রহণ করতে হবে।
সেপ্টেম্বরে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে পাঠানো প্রাথমিক প্রস্তাবে সব দাবি পূরণের ছয় দিনের মধ্যে প্রণালি খোলার কথা বলেছিল ইরান। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই রবিবার জানান, তারা কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে তিনি একটি চিঠি পেলেও এখনও উত্তর দেননি বলে নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব উভয়েই সামরিক অভিযান জোরদারের হুমকি দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ এক-দুটি লক্ষ্যবস্তুতে তাদের এখনও ব্যবস্থা নিতে হবে। জবাবে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশের নিরাপত্ত বাহিনীকে শত্রুর হুমকির বিরুদ্ধে সীমহীন প্রতিক্রিয়া জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ