ভারতের মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলায় দুধী নদীর ওপর ৩০৮ মিটারের একটি দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেতুটি ঘিরে আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষের মনে আশা জেগেছিল যে অবশেষে তারা রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন। তবে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার তিন বছর কেটে গেলেও আট কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোটি আজ পর্যন্ত কোনও কাজে আসেনি। সেতুটিতে ওঠার জন্য দুই পাশের সংযোগ সড়ক তৈরিই করা হয়নি, আর সেই সড়ক তৈরির দায়িত্ব কোন সরকারি দফতর পাবে- তা এখনও ঠিক করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
নর্মদাপুরমের বনখেড়ি এলাকার উমরধা গ্রামের কাছে অবস্থিত সেতুটির নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী নরসিংপুর জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করা এবং আশেপাশের ৪০ থেকে ৫০টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করাই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
তবে সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটিকে মূল গ্রামের সড়কের সাথে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সংযোগ সড়ক এখনও তৈরি করা হয়নি।
নরসিংপুরের সেতু নির্মাণ বিভাগের সাব-ডিভিশনাল অফিসার কেশব রাইদাস জানান, তিন বছর আগে তার দফতরকে যে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা তারা সময়মতো শেষ করেছেন। তিনি বলেন, মূল সেতুর কাজ ছাড়াও এর দুই প্রান্তে যথাক্রমে ৫০ মিটার ও ১০০ মিটারের অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নদীর দুই পাশের দীর্ঘ সংযোগ সড়ক তৈরির কাজটি অন্য কোনও সংস্থাকে দিতে হবে।
অবশিষ্ট রাস্তার তথ্যের জন্য রাজ্য সরকার একটি বিবরণ চেয়েছিল উল্লেখ করে রাইদাস জানান, তাদের বিভাগ থেকে ইতোমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী দুটি অংশ তৈরি করা বাকি- নরসিংপুর অংশে প্রায় ১,২০০ মিটার এবং নর্মদাপুরম অংশে প্রায় ১,৫০০ মিটার সড়ক।
কেশব রাইদাস বলেন, যেহেতু আমাদের বিভাগকে দেওয়া সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে, তাই বাকি অংশগুলোর কাজ কোন দফতর করবে তা রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে।
এদিকে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালে সেতুতে যাওয়ার কাঁচা পথগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে ও পানিতে তলিয়ে যায়। আবার বর্ষা শেষে পুরো পথজুড়ে দেখা দেয় খানাখন্দ। ফলে কাগজে-কলমে এবং বাস্তবে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও মূল যাতায়াতের উদ্দেশ্যটি অধরাই থেকে গেছে।
কর্মকর্তা রাইদাস জানান, নর্মদাপুরম অংশের সংযোগ সড়কের জন্য পিডাব্লিউডি এবং নরসিংপুর অংশের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’-কে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি কেবল একটি প্রস্তাবনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের হাতেই রয়েছে।
উল্লেখ্য সেতুটি নির্মাণের জন্য ৮ দশমিক ৮৬ কোটি রুপি বাজেট মঞ্জুর করা হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮ কোটি রুপিতেই এর কাজ শেষ করে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মায়াবী গাছের সুড়ঙ্গ ‘ডার্ক হেজেস’, যেন অন্য এক জগতে যাওয়ার পথ
জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীর বিয়ে ‘অবৈধ’: জামায়াত প্রধান