যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর নেতানিয়াহুকে সরাতে আরও একাট্টা বিরোধীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিপুল বিজয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের খবর প্রকাশের পর ইসরায়েলে রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই ফলাফল ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য মারাত্মক বিপর্যয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মধ্য-ডানপন্থি টুগেদার জোটের নেতা ইয়ার লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনও জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে নির্মূল করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেখে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারে না। এটি নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে আমাদের বিশ্বজুড়ে পিষে ফেলবে।

উল্লেখ্য, উগ্রপন্থিদের বাদ দিয়ে নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতাদের একটি ঐক্য সরকার গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস জোটের নেতা ইয়ার গোলান নেতানিয়াহুকে নিরাপত্তা হুমকি আখ্যা দিয়ে বলেন, মিশিগানের নির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রগতিশীলদের জয়ে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু এখন ‘বিষাক্ত’ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। গোলান এক্স-এ লিখেছেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন, তিনি ইসরায়েলের জন্য বিপজ্জনক। সময় নষ্ট না করে এখনই পরিবর্তন সরকার গঠন করতে হবে।

একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে ডেমোক্র্যাটস এমপি গিলাদ কারিভও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনা বাতিল করে দেন।

প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জয়ের প্রভাব ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইসরায়েলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিপি লিভনি বলেন, বিজয়ী হওয়া প্রগতিশীল কর্মকর্তাদের মানসিকতার সামনে নেতানিয়াহু ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও আত্মরক্ষার বৈধতা ধরে রাখতে পারবেন না।

কান ১১-এর কূটনৈতিক প্রতিনিধি গিলি কোহেন বলেন, এই নির্বাচন কেবল ট্রাম্পের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের মর্যাদারও পরাজয়।

দৈনিক হারেৎজের সাংবাদিক আমির তিবন লিখেছেন, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা মার্কিন সামরিক সহায়তা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিপদ। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহুর চাপে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে।

এমনকি ডানপন্থি বিশ্লেষকরাও এই ফলের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রেডিও ১০৩এফএম-কে সাংবাদিক আরিয়েল কাহানা বলেন, নেতানিয়াহু এখন ইসরায়েলের জন্য একটি বোঝা।

জুয়িশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক কোবি বার্দা বলেন, এই নির্বাচনে ইরান বড় বিজয়ী এবং নেতানিয়াহু বিশাল পরাজিত ব্যক্তি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলবিরোধী প্রার্থীদের জয় সামরিক সাহায্য বন্ধের সূচনা মাত্র। এটি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ভিসা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অর্ধশতকের যে যুগ আমরা জানতাম, তার অবসান ঘটেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই