ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে

ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। একটি রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রফতানি চুক্তির গোপন নথির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা কেটিআরভি-র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভিম্পেল স্টেট মেশিন বিল্ডিং ডিজাইন ব্যুরো-র কিছু নথি হাতে পেয়েছে। যেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনের সময়সূচিতে ‘কে-১০’ কোডধারী ক্রেতার জন্য ৯০টি এপিইউ-এল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের অর্ডারের উল্লেখ রয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা নথিতে এই কোডটি ইরানকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া চীনের জন্য ১৯২টি এপিইউ-৩০৫ লঞ্চারের অর্ডারসহ সাতজন রুশ ক্রেতার নামও নথিগুলোতে রয়েছে।

রাশিয়ার এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী এই লঞ্চারগুলো ইজদেলিয়ে ৩০৫ নামক হালকা বহুমুখী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা ১৪ কিলোমিটার (৮.৭ মাইল) দূরের চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডালাস অ্যানালিটিক্স এই নথিগুলো এফটি-কে সরবরাহ করে এবং পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরান পেয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো তেহরানকে অস্ত্র, স্যাটেলাইট তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে মে মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া তেহরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ করছে না।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো-তেহরান সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার সুখই ৩৫ যুদ্ধবিমান, এমআই-২৮ হেলিকপ্টার ও ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল ইরান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, সুখই-৩৫ জেটের ক্রয় সম্পন্ন হলেও তা চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হস্তান্তরিত হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর ফোরামের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধের শুরুতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূমিকায় পুতিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন।

সূত্র: আল-মনিটর