যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নিতে তৈরি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানান, পারমাণবিক নীতিতে যেকোনও ধরনের পরিবর্তন দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের মোহেব্বিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, যদি দেশের নেতৃত্ব পারমাণবিক নীতি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর দীর্ঘদিনের অবস্থান ত্যাগ করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি নীতি পরিবর্তন হলে কেমন রূপ নেবে সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
আইআরজিসির এই মন্তব্যের এক সপ্তাহ আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই জানান, পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে ইরান। এ ছাড়া দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক ধর্মীয় ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ও ব্যবহারকে ইসলামি নীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে একটি বিমান বিধ্বংসী বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে দাবি করেন, আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে না আটকালে আজ ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের কোনও অস্তিত্ব থাকত না। কেউ এটি মুখে বলতে না চাইলেও সত্যটি সবাই জানে।
পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক উপকরণের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে পারছে না। তবে অক্টোবরে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, আইএইএ-র ধারণা মতে ইস্পাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে ইরানের কাছে এখনও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত থাকতে পারে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানালেও তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম বজায় রেখেই চুক্তি চায়। এই টানাপোড়েনের মধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পুনরায় হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে