হ্যারিকেনে হারিয়ে গেছে হাওয়াইয়ের দ্বীপ, ঝুঁকিতে বিপন্ন প্রজাতি

হ্যারিকেন ওয়াকার আঘাতে তলিয়ে গেছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ। হনলুলু থেকে থেকে ৫৫০ মাইল উত্ত-পশ্চিমে অবস্থান ছিল তলিয়ে যাওয়া দ্বীপ ‘ইস্ট আইল্যান্ড।’ বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ইস্ট আইল্যান্ডের ডুবে যাওয়ার মাধ্যমে দুইটি বিপন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক মন্তব্য করেছেন, হ্যারিকেনের পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নও দ্বীপটির তলিয়ে যাওয়ার পেছেনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।ইস্ট আইল্যান্ড

হ্যারিকেন ওয়াকা ছিল ক্যাটাগরি ফাইভ ঘূর্ণিঝড়। এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৭ মাইল। দ্বীপটিতে কোনও জনবসতি ছিল না। হ্যারিকেনের পাশাপাশি দ্বীপটির ডুবে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনও ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে মাওনার হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চিপ ফ্লেচার বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে। আর তা হচ্ছে খুব দ্রুত হারে। এ ধরণের দ্বীপগুলোর গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সম্পর্কিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি ধীরে বাড়ত তাহলে এই ধরণের দ্বীপগুলো মানিয়ে নেওয়ার সময় পেত। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখন তো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে এমন দ্বীপগুলোর টিকে থাকার সুযোগ খুব কম।’

এদিকে ‘ইস্ট আইল্যান্ড’ ডুবে যাওয়ায় বিজ্ঞানীরা চিন্তিত দুটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে নিয়ে। এদের একটি হাওয়াইয়ান গ্রিন সি টার্টেল ও অপরটি হাওয়াইয়ান মঙ্ক সিল। ইস্ট আইল্যান্ডটি এই দুই প্রজাতির বিচরণক্ষেত্রে ছিল। হাওয়াইয়ান গ্রিন সি টার্টেলের প্রায় ৯৬ শতাংশই প্রজনন ঋতুতে ও দ্বীপ এলাকায় যেত। অধ্যাপক ফ্লেচার জানিয়েছেন, ‘গত জুলাই মাসে আমরা দ্বীপটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের প্রতিটি পা ফেলতে হয়েছে খুব সাবধনাতার সঙ্গে। কারণ সেটি কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান। আশার কথা হচ্ছে, হ্যারিকেন আঘাত হানার আগেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়ে যাওয়ার কথা।’

পৃথিবীতে হাওয়াইয়ান মঙ্ক সিলের সংখ্যা মাত্র এক হাজার চারশটি। এরা বেশিরভাগ সময় ‘ইস্ট আইল্যান্ড’ দ্বীপটিতেই অবস্থান করত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ঝড়ের সময় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে সক্ষম। তবে শেষ পর্যন্ত কি ঘটেছে তা বুঝতে চূড়ান্ত নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।