কোয়াড নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভারত ও অস্ট্রেলিয়া

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের চার দেশীয় নিরাপত্তা জোট কোয়াড-এর কার্যক্রমে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল কোনও প্রভাব ফেলবে না। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ক্যানবেরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অস্ট্রেলিয়া ও ভারত উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশগুলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে তার। তাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসময় অস্ট্রেলিয়ায় পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও আস্ট্রেলিয়ার ত্রিদেশীয় সামরিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব চুক্তি অকাস (এইউকেইউএস)-এর উল্লেখ করে পেনি ওং বলেন, ‘আলোচনা জন্য অকাস আমাদের অন্যতম একটি অগ্রাধিকার ছিল এবং যে দ্বিদলীয় সমর্থন আমরা দেখেছি তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক প্রকল্প বিষয়ক এই চুক্তি ২০২৩ সালে বাইডেন শাসনামলে স্বাক্ষরিত হয়।

তিনি বলছিলেন, ‘মার্কিন নির্বাচনে আমেরিকার জনগণ যাকেই বেছে নেবে আমরা তার সঙ্গেই কাজ করবো।’

উল্লেখ্য, কোয়াড জোটকে বরাবরই চীনের বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে আসছে বেইজিং।

সেপ্টেম্বরে যৌথ উপকূলরক্ষী টহল ও সামরিক সরবরাহ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন কোয়াড নেতারা। এই অঞ্চলে কোয়াড ‘খুব মূল্যবান’ ছিল বলে মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্বিশেষে আমরা এর গুরুত্ব ধরে রাখতে দেখছি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের শাসনামলে কোয়াড পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে এসে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। রায় যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল ঘনিষ্টই হবে।’