পশু-পখির ভাষা বুঝতে এআই, প্রাণিদের সঙ্গে মানুষের কথা বলা কি শুরু হচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কেবল মানুষের ভাষা বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রাণিজগতের যোগাযোগের ভাষা ও সংকেত উদঘাটনে এখন পুরোদমে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা সফল হলে আগামী দিনে মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণীর যোগাযোগের এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে পারে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশু-পাখির শব্দ ও ডাকের সুবিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ করছেন। খালি কানে মানুষের পক্ষে যা বোঝা প্রায় অসম্ভব, এআই সেই হাজার হাজার রেকর্ডিংয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা সংকেত খুঁজে বের করছে। কাক, তিমি এবং নেকড়েসহ নানা প্রাণীর ওপর চালানো হচ্ছে এই গবেষণা।

কাকের ভাষা উদঘাটনে এআই 

স্পেনে প্রায় তিন দশক ধরে ‘ক্যারিয়ন’ জাতের কাক নিয়ে গবেষণা করছেন জীববিজ্ঞানী ভিত্তোরিও বাগলিওনে। ২০১৮ সালে তিনি ও তার সহযোগী দানিয়েলা কানেস্ত্রারি ৪৩টি কাকের শরীরে ছোট মাইক্রোফোন পরিয়ে দেন। এর মাধ্যমে পূর্ণবয়স্ক ও ছানা কাকের সংগৃহীত হাজার হাজার ঘণ্টার রেকর্ডিং নিয়ে তাদের কাছে প্রায় দেড় লাখ অডিও সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে ‘আর্থ স্পিসিস প্রজেক্ট’-এর তৈরি একটি বিশেষ এআই মডেলের সাহায্যে এই সুবিশাল শব্দভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নির্দিষ্ট কাকের ডাক পৃথক করতে সক্ষম হন। 

মানুষ কি প্রাণিদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে?

প্রাণী যোগাযোগের এই সম্ভাবনার পরিধি ব্যাপক। গবেষকরা প্রাণীর আচরণের সঙ্গে অডিও ও দৃশ্যমান তথ্য একত্র করে নতুন প্যাটার্ন খুঁজছেন। প্রাণী যোগাযোগের এই গবেষণার অন্যতম সমর্থক জেরোমি কলার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ বা কথোপকথন হয়তো সম্ভব হয়ে উঠবে।

তবে প্রাণিদের যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের সাধারণ বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রাণীরা শব্দ ছাড়াও গন্ধ, শরীরের রঙ, অঙ্গভঙ্গি কিংবা সোনার তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে। ফলে শুধু শব্দের অনুবাদই যথেষ্ট নয়; এআইকে একই সঙ্গে প্রাণীর চারপাশের পরিবেশ ও সার্বিক আচরণ বুঝতে হবে।

এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি

এই যুগান্তকারী অগ্রগতির একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মোর-দ্যান-হিউম্যান লাইফ’ প্রোগ্রামের পরিচালক সেসার রদ্রিগেজ-গার্যাভিতো সতর্ক করে বলেন, প্রাণিদের ভাষা বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বুঝে ফেললে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে বিশাল স্কেলে তাদের ম্যানিপুলেট বা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে, যা প্রাণিজগতের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।


সূত্র: উইয়ন নিউজ