ওয়াশিংটন-মস্কোর অন্য ধরনের লড়াই

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণকে গৌরবান্বিত করতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি চত্ত্বরের নামকরণ করতে যাচ্ছে মস্কো কর্তৃপক্ষ। আর এজন্য শহরের বাসিন্দাদের একটি নাম পছন্দ করতেও আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মস্কো টাইমস-এর বরাতে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এখবর জানিয়েছে।

আলবেনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতিরোধকে সম্মান জানাতে বেশ কয়েকটি সড়কের নামকরণ করেছে। স্কটল্যান্ডে রুশ কনস্যুলেট ভবনের কাছের রাস্তার নামকরণ নিয়ে একটি প্রচার কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়াকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০১৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস হয়। এতে রুশ দূতাবাসের সামনের রাস্তার নামকরণ ‘বরিস নেমৎসভ প্লাজা’ করা হয়েছে। রাশিয়ার বিরোধী এই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তার সম্মানে এই নামকরণ করে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার রাজধানীর কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের তিনটি নামের একটি তালিকায় ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এই নামগুলো পূর্ব ইউক্রেনে লড়াইরত রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মহিমান্বিত করে। বর্তমানে এই চত্ত্বরটির কোনও নাম নেই। এটি মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবস্থিত।

এই নামকরণের উদ্যোগকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্কের আরও অবনতির লক্ষণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

মস্কো কর্তৃপক্ষ চত্ত্বরটির যে নামের তালিকা দাখিল করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ডিফেন্ডার্স অব ডনবাস স্কয়ার, দনেস্ক পিপল’স রিপাবলিক স্কয়ার ও হিরো অব রাশিয়া ভ্লাদিমির আর্তিমোভিচ ঝোগা স্কয়ার।

ডনবাস হলো পূর্ব ইউক্রেনের একটি অঞ্চল। এখন সেখানে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে রুশ সেনারা। এই অঞ্চলে রুশ ভাষাভাষী অনেক মানুষ রয়েছেন।

ভ্লাদিমির ঝোগা ছিলেন একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সামরিক নেতা। এই বছরের শুরুতে তিনি লড়াইয়ে নিহত হন।

মস্কোর অ্যাক্টিভ সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম জানায়, মস্কো শহর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের কাছ থেকে চত্ত্বরের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন। ফলে শহরজুড়ে একটি ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

প্ল্যাটফর্মটিতে ২৫ হাজার নিবন্ধিত ভোট রয়েছে। ভোটাভুটি কবে শেষ হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। ভোটে স্থানীয়রা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কর্মকর্তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে।

রাশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস টেলিগ্রামে জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের কাছের চত্ত্বরকে ‘ডনবাস ডিফেন্ডার্স স্কয়ার’ নামকরণে রুশ সরকারের প্রস্তাবে আমরা অবাক হয়েছি, কিন্তু বিক্ষুব্ধ না।