রাশিয়ার আস্ট্রখান ওব্লাস্ট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মরু প্রান্তরের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চোখ আটকে যেতে পারে বিশালাকৃতির এক লাল ইটের দালানের দিকে। ২০ তলা ভবনের সমান উঁচু এই কাঠামোটি আসলে একটি বাতিঘর। সাধারণত সমুদ্র উপকূলে এমন বাতিঘরের দেখা মিললেও আস্ত্রাখানের এই বাতিঘরটি থেকে নিকটতম উপকূলের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এমনকি এর চূড়ায় উঠলেও সমুদ্রের দেখা পাওয়া ভার।
অদ্ভুত মনে হলেও পেত্রোভস্কি লাইটহাউস নামের এই স্থাপত্যটির পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কারণ। ১৭১৭ সালে রাশিয়ার সম্রাট পিটার দ্য গ্রেট যখন এই বাতিঘরটি নির্মাণের নির্দেশ দেন, তখন এই পুরো এলাকাটি ছিল কাস্পিয়ান সাগরের অংশ। এখানে ছোট ছোট দ্বীপ ছিল এবং জাহাজ নোঙর করার জন্য ছিল একটি বন্দর।
শুরুতে বাতিঘরটি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হলেও এক শক্তিশালী ঝড়ে তা বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালে বর্তমানের এই ইটের তৈরি বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। এর ভেতরে থাকা কাস্ট-আয়রনের তৈরি সিঁড়ি এবং মজবুত পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মগুলো আজও টিকে আছে।
দীর্ঘ সময় ধরে কাস্পিয়ান সাগরের পানি সরে যেতে থাকে। গত শতকের শুরুতে এলাকার পানি এতটাই কমে যায় যে বন্দরটি বন্ধ করে দিতে হয়। এরপরও পেত্রোভস্কি বাতিঘর ১৯৩০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। তখন পর্যন্ত কাস্পিয়ান সাগরের পানি পুরোপুরি সরে যায়।
নব্বইয়ের দশকে আস্ত্রাখানের এই মরু বাতিঘর একটি ছোট রেডিও স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে ১৯৩০ সালে বাতিঘর হিসেবে এর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে এটি মূলত বন্ধই রয়েছে। বর্তমানে এটি রাশিয়ার একটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ এবং পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: অদ্বিতী সেন্ট্রাল