পুতিনের প্রাসাদ কি এবার ইউক্রেনের নিশানায়?

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শতকোটি পাউন্ডের সুরক্ষিত প্রাসাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ধ্বংস করেছে ইউক্রেন। দীর্ঘপাল্লার সুনির্দিষ্ট হামলায় প্রাসাদটিকে ঘিরে রাখা সুরক্ষাবলয় এক এক করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত পুতিনের বিলাসবহুল এই প্রাসাদটিই এখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।

সামরিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট গেলেন্দঝিক শহরের কাছে অবস্থিত পুতিনের প্রাসাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ‘ভোলনা কুপোল গ্যারান্ট’ নামক একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ধ্বংস করে ইউক্রেন। এর ঠিক দুই দিন পর প্রাসাদ এলাকা পাহারা দেওয়া একটি এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেমের অন্তত একটি লঞ্চার ধ্বংস করা হয়।

সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভেয়েভ জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমটি মূলত পুতিনের প্রাসাদের আশপাশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা জ্যাম বা বিকল করতে ব্যবহৃত হতো। আকারে বড় হওয়ার কারণে এটি আকাশ থেকে সহজে শনাক্ত করা যায় এবং শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়। এটি ধ্বংস হওয়ার পর ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রাসাদটি রক্ষাকারী এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর হামলা চালানোর সুযোগ পায়। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির অন্তত একটি লঞ্চার ধ্বংস হওয়ায় প্রাসাদটি এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের ড্রোন সংক্রান্ত ইউনিটের প্রধান মেজর রবার্ট ব্রোভদি জানান, প্রাসাদ থেকে মাত্র ১২ মাইল দূরে অবস্থিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটিতে হামলা চালানোর পর সেটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলছিল। রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মস্কো টাইমস-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পুতিনের বাসভবনের সুরক্ষা ব্যবস্থা পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে ইউক্রেন। এর ফলে খুব শিগগিরই বিলাসবহুল এই প্রাসাদে সরাসরি ইউক্রেনীয় হামলা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, যা চলমান যুদ্ধে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

পুতিনের এই প্রাসাদটি প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পাহাড়ের চূড়া কেটে নির্মিত এই প্রাসাদের নিচে ১৬ তলার একটি ভূগর্ভস্থ কম্প্লেক্স ও বাংকার রয়েছে, যা পারমাণবিক হামলা সহ্য করতে সক্ষম। ২০২১ সালে রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন, পুতিনের জন্য নির্মিত এই প্রাসাদটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১০০ কোটি পাউন্ড, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘুষের টাকায় তৈরি। তবে পুতিন সচরাচর এখানে আসেন না; তিনি মূলত ভালদাই হ্রদের কাছের বাসভবনেই অবস্থান করেন।

প্রাসাদের সুরক্ষাব্যূহ ধ্বংসের পাশাপাশি রাশিয়ার ভূখণ্ডের বহু গভীরে একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে ইউক্রেন। গত জুলাই মাসে ইউক্রেনের ‘এফপি-১’ ড্রোন টানা ১২ ঘণ্টা ধরে ২,৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাইবেরিয়ার ওমস্কে অবস্থিত গাজপ্রম নেফটের তেল শোধনাগারে সফল হামলা চালায়। এতে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্যাসোলিন উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর মাত্র কয়েকদিন পর রাশিয়ার ৮০০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে এঙ্গেলস-২ বিমান ঘাঁটিতে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমান 'তু-৯৫' ধ্বংস করে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সেবা সংস্থা। 

সূত্র: উইয়ন নিউজ