আগামী ২৩ জুন ইইউতে ব্রিটেনের থাকা না থাকা নিয়ে গণভোট হবে। গত বৃহস্পতিবার কক্সকে হত্যার পর ব্রেক্সিটের পক্ষ ও বিপক্ষ শিবির তিন দিন প্রচারণা বন্ধ রেখেছিল। আদালতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ৫২ বছরের থমাস মায়ারের বিরুদ্ধে কক্সকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। জো কক্স ব্রিটেনের ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। মৃত্যুর তিনদিন আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের থাকাকে সমর্থন জানিয়ে নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি।
গণভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় নেতারা পক্ষে-বিপক্ষে ভোটারদের টানার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে রবিবার বিভিন্ন টেলিভিশন স্টুডিওতে ভিড় করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেন এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ের সম্মুখিন। যেখান থেকে ফেরার আর কোনও উপায় থাকবে না।
ক্যামেরন বলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে ব্রিটেনের ব্যবসা ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সানডে টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘আপনি যদি নিশ্চিত না হন তাহলে ইইউ থেকে বের হওয়ার ঝুঁকি নিবেন না, আপনি যদি নাই জানেন তাহলে বের হয়ে যাবেন না’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ইইউ ছাড়ি সেটা হবে আমাদের বিরাট ভুল।’
ব্রেক্সিটের বিপক্ষে থাকা ক্যামেরন, অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন ও বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের রবিবার টিভিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ইউকে ইন্ডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নিগেল ফারাগ লিভ ক্যাম্পের পক্ষে টিভিতে প্রচারণায় অংশ নেবেন।
রবিবার ব্রিটেনের বিভিন্ন পত্রিকা গণভোটের আগে তাদের চূড়ান্ত সংস্করণগুলোতে নানা পক্ষাবলম্বন করেছে। মেইল ও অবজারভার ইইউতে ব্রিটেনের থাকার ব্যাপারে সমর্থন প্রকাশ করেছে। অন্য দিকে দ্য সানডে টাইমস ও দ্য সানডে টেলিগ্রাফ ব্রেক্সিটের পক্ষে মত দিয়েছে।
গত বছর ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনে নির্বাচিত হয়ে হাউজ অব কমন্সে প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন জো কক্স। তার আগ পর্যন্ত ত্রাণকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। জো কক্স মনে করতেন, অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যের বোঝা নয়, সম্পদ। মৃত্যুর আগে লেখা এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশ যে অভিবাসীদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পেয়েছে তা বেশিরভাগ ভোটারই স্বীকার করবেন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে মেধাবী চিকিৎসকদের থেকে দক্ষ শ্রমিক সবাই আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।’
ওই নিবন্ধ প্রকাশের তিন দিন পর নিজের নির্বাচনি আসনে হত্যার শিকার হন জো কক্স। তাকে হত্যার অভিযোগে থমাস মায়ার নামে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার মায়ারকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্টেট আদালতে হাজির করা হলে, তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকের মৃত্যু, ব্রিটেনের স্বাধীনতা।’
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জো কক্স টার্গেট কিলিং-এর শিকার হয়েছিলেন। সন্দেহভাজন মায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নাৎসিদের পোশাক এবং বেশকিছু কট্টর জাতীয়তাবাদী দলিল-পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার জো কক্সকে গুলি করে হত্যার আগে ‘পুট ব্রিটেন ফার্স্ট’ বলে চিৎকার করেছিলেন হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া মায়ার। তাও আবার একবার নয়,তিন বার চিৎকার করেছিলেন তিনি। সূত্র: গার্ডিয়ান
/এএ/