মৃত্যুর আগে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন জো কক্স

জো কক্সশরণার্থী ও অভিবাসীদের পক্ষে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত ব্রিটিশ এমপি জো কক্স।মৃত্যুর আগে মুসলিমবিরোধী বিশেষ করে নারীদের ওপর হামলার আশঙ্কা করছিলেন তিনি। ব্রিটেনে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা ও হামলার ওপর তিনি একটি প্রতিবেদনও তৈরি করছিলেন জো কক্স। চলতি মাসেই পার্লামেন্টে এ বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

গত বৃহস্পতিবার কক্সকে তার কার্যালয়ের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। জো কক্স ব্রিটেনের ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। গত বছর ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনে নির্বাচিত হয়ে হাউজ অব কমন্সে প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন জো কক্স। তার আগ পর্যন্ত ত্রাণকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।  মৃত্যুর তিনদিন আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের থাকাকে সমর্থন জানিয়ে নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জো কক্স ইসলামবিরোধী সহিংসতার ওপর প্রতিবেদন তৈরির জন্য টেল মামা নামক মুসলিমবিরোধী পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছিলেন। সংস্থাটির পরিচালক জানিয়েছেন, জো কক্সের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৫ সালে মুসলমানের ওপর হামলার পরিমাণ বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

টেল মামার পরিচালক ফিয়াজ মুঘল বলেন, জো কক্স আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মানুষ কীভাবে হামলার কথা জনাতে পারে। বিশেষ করে তার নির্বাচিত এলাকার নারীরা।

ফিয়াজ মুঘল জানান, জো কক্সের প্রতিবেদনে গত এক বছরের ইসলামবিরোধী হামলার তথ্য ছিল। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম মুসলিম নারীদের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি সামনে নিয়ে আসতে পারবেন। এলাকার রাস্তায় মুসলিম নারীরাই বেশি চলাচল করে এবং তিনি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলতে চাইছিলেন।

ফিয়াজ জানান, জো কক্স যে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তাতে টেল মামা ও পুলিশের তিনটি বাহিনী থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তাদের সংস্থার পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে ১ হাজার ১০০ মুসলিমবিরোধী হামলার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যা এর আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।

টাইমস-এর এক খবরে বলা হয়েছে, টেল মামা’র কর্মীদের সঙ্গে একদিন দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় ভিডিও ধারণ করেন জো কক্স। তাদের যে আলোচনা হয়েছে তাতে উল্লাসিত ছিলেন কক্স। জো কক্স জানিয়েছিলেন, ইসলামবিদ্বেষ মোকাবেলায় কীভাবে সহযোগিতার কথা তিনি ভাবছেন। বিশেষ করে তার নির্বাচনি এলাকায় ইসলামবিদ্বেষ বেশ গুরুতর পর্যায়ে চলে গেছে। তার মতে, অনেক নারী রাস্তায় চলাচলের সময় নিরাপধবোধ করতেন না।

মৃত্যুর তিনদিন আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের থাকাকে সমর্থন ও অভিবাসনের পক্ষে নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি। সর্বপ্রথম পলিটিকসহোম.কমে প্রকাশ হয় নিবন্ধটি। ওই নিবন্ধে ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনের এমপি ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগগুলোকে মোকাবেলা করার জন্য ‘লিভ ভোট’ একমাত্র উপায় বলে যে প্রচারণা চলছে তারা যেন সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে না দেয়।

নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশ যে অভিবাসীদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পেয়েছে তা বেশিরভাগ ভোটারই স্বীকার করবেন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে মেধাবী চিকিৎসকদের থেকে দক্ষ শ্রমিক সবাই আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।’

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জো কক্স টার্গেট কিলিং-এর শিকার হয়েছিলেন। সন্দেহভাজন মায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নাৎসিদের পোশাক এবং বেশকিছু কট্টর জাতীয়তাবাদী দলিল-পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উগ্র জাতীয়তাবাদী ৫২ বছরের থমাস মায়ারের বিরুদ্ধে কক্সকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার জো কক্সকে গুলি করে হত্যার আগে ‘পুট ব্রিটেন ফার্স্ট’ বলে চিৎকার করেছিলেন হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া মায়ার। তাও আবার একবার নয়,তিন বার চিৎকার করেছিলেন তিনি। সূত্র: গার্ডিয়ান

/এএ/