সন্ত্রাসী হামলার কারণে যুক্তরাজ্যে বাড়ছে বিদ্বেষমূলক অপরাধ

চলতি বছর যুক্তরাজ্যে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর বিদ্বেষমূলক অপরাধের (হেট ক্রাইম) সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার যুক্তরাজ্য পুলিশের এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

edl

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পুলিশের প্রধান কাউন্সিল (এনপিসিসি) জানায়, চলতি বছর কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর পর দেশটির নাগরিকদের হেনস্তার পরিমাণ বেড়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে ছুরি ও গাড়ি হামলার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর ২৩৪টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মে মানে ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী হামলার পর ২৭৩টি বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। লন্ডন ব্রিজ হামলার পর বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৯টি।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হামলার পর হেট ক্রাইমের সংখ্যা ১২ শতাংশ, ম্যানচেস্টার হামলার পর ৫০ শতাংশ এবং লন্ডন ব্রিজ হামলার পর বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।

এনপিসিসির বিদ্বেষমূলক অপরাধ শাখার প্রধান সহকারী প্রধান কনস্টেবল মার্ক হ্যামিল্টন জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী হামলায় স্বল্প মেয়াদে বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই জন্য সর্বশেষ হামলাগুলোর পর পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যকার উত্তেজনা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মার্ক হ্যামিল্টন বলেন, পুলিশ বাহিনীর রিপোর্ট থেকে দেখা যায় যে, সন্ত্রাসী হামলার পরপর মধ্যে হেট ক্রাইমের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তা কমে আসে।  এ ধরনের প্রবণতা আমরা আগেও লক্ষ্য করেছি। তবে এখনও বিষয়টি পুলিশ ও পুরো সমাজের জন্য সত্যিকারের উদ্বেগের বিষয়।

ম্যানচেস্টারে বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার পর হেট ক্রাইমের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০১৬ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ।

এই প্রবণতার বিপরীত ধারাও লক্ষণীয়। লন্ডনের ফিন্সবারি পার্কে মুসলিম পুণ্যার্থীদের ওপর হামলার পর হেট ক্রাইমের পরিমাণ ৭ শতাংশ কম ছিল।

পুলিশের মতে, ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন হেট ক্রাইমের সংখ্যা ছিল গড়ে ১৭১টি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা আরও বেড়ে যায়।

/এএ/