যুক্তরাজ্যে কবর দেওয়ার খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার পাউন্ডে

কবরস্থ করতে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রিয়জন হারানোর শোকে মুহ্যমান পরিবারের কাছ থেকে সেবা দেওয়ার নামে মূল্যস্ফীতি হারের প্রায় তিনগুণ অর্থ আদায় করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে এখন একজন ব্যক্তিকে কবর দিতে গেলে সব আনুষ্ঠানিকতা বাবদ তিন থেকে পাঁচ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ করা লাগে।s4.reutersmedia.net

যুক্তরাজ্যের ‘কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি’ (সিএমএ) বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির চেয়েও অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে কবর দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সেবার মূল্য। আর মূল্যস্ফীতির চেয়েও মূল্য বেশি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে। অথচ মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি হারে সেবার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তিগ্রাহ্য কোনও মান বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি।

কবর দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা প্রদানকারী ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর মধ্যে যারা বড় তারাই এমন মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। অন্যদিকে সস্তায় এমন সেবা দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টা খুব একটা সফলতার মুখ দেখেনি। গত দশ বছরে কবর দেওয়ার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম দুই তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বজনের কবর দিতে ব্রিটিশদের তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার পাউন্ডের মতো খরচ করতে হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির তুলনায় সেবার মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে তিনগুণ বেশি। অথচ দাম বৃদ্ধির পেছনেসেবার মান বৃদ্ধিরও কোনও প্রমাণ নেই। সিএমএর প্রধান ব্যবস্থাপক আন্দ্রিয়া কোসসেলি বলেছেন, ‘প্রিয়জন হারানোর বেদনায় থাকা মানুষদের ঠকানো সহজ। আমরা চাই, এমন দুর্বল সময়ে তাদেরকে রক্ষা করতে। গত এক দশকে কবর দেওয়ার খরচ যে পরিমাণ বেড়েছে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

সিএমএএর গবেষণায় মূল্য বৃদ্ধির এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর ডিগনিটি নামের প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিএমএর প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাদের শেয়ারের মূল্য ১৮ শতাংশ কমে গেছে।

‘কো-অপ ফিউনারেলকেয়ার’ নামের প্রতিষ্ঠানটিও সিএমএর সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে স্বীকার করেছে, ‘এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে।’ এই দুইটিই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় সৎকার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। আর দুইটিরই মালিক ‘কো-অপারেটিভ গ্রুপ।’