প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে চাপের মুখে পড়েছে ব্রিটেনের ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ সরকার।
দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতিতে জেরবার ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকার ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে— এমন চিত্র ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে। ব্রিটেনে বাংলাদেশিসহ মুসলমান ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির ভোটারদের মধ্যে লেবার পার্টির সংখ্যাধিক্য থাকলেও বাকি ভোটের বড় অংশই যেতো কনজারভেটিভের বাক্সে। কিন্তু, প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে দেশটির বিশাল মুসলিম সমর্থকদের হতাশ করেছে ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ সরকার। বিরোধীদল লেবার পার্টিও ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ায় হতাশা রয়েছে লেবার পার্টির মুসলমান সমর্থক শিবিরে। যদিও দলীয় সিদ্বান্তের বিরুদ্ধে কথা বলে সাংগঠনিক শাস্তি এড়াতে পদবিধারী অনেকেই সরাসরি কথা বলছেন না।
ব্রিটেনে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মুসলমানের বাস। ব্রিটেনে কোনও ইস্যুতে সংসদে করা জনগণের আবেদনে এক লাখ মানুষের সাক্ষর যুক্ত হলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিবেচিত হয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ইসরাইল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ইসরাইলের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন প্রত্যাহার ও এই ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকার দাবিতে একটি পিটিশন ক্যাম্পেইন শুরু করেন হুসাইন ইকবাল নামে ব্রিটেনের এক নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) লন্ডন সময় দুপুর সাড়ে এগারোটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৫ দিনে এক লাখ পনেরো হাজারের বেশি নাগরিক মানুষ সহমত জানিয়ে পিটিশনে সাক্ষর করেছেন।
প্যালেস্টাইনের অধিবাসীদের সহায়তার জন্য ব্রিটেনের বিভিন্ন মুসলিম চ্যারেটি ও সামাজিক সংগঠন এরই মধ্যে সোচ্চার হয়েছে। গত শনিবার লন্ডনসহ পুরো ব্রিটেনজুড়ে প্যালেস্টাইনি নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের উপর বর্বরতার বিক্ষোভে সাদা-কালো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় পনেরো হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
প্যালেস্টাইনে ইসরাইলের হামলা শুরুর পর ব্রিটেনজুড়ে হেইট ক্রাইম এড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটেন। ইহুদিদের স্কুল ও স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে পুলিশ। ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি সুয়েলা ব্রেভারম্যান ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি পতাকা উড়ানোকে ফৌজদারি অপরাধ বলে ঘোষণা দিলেও কার্যত বাংলাদেশি ও মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় অসংখ্য ফিলিস্তিনি পতাকা উড়তে দেখা গেছে গত চার দিনে।
ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল গাজা ও এর আশেপাশে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে টার্গেট করা কখনোই অজুহাত বা ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না উল্লেখ করে তারা বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনিরা কয়েক দশক ধরে অবৈধ ইসরাইলি দখলদারিত্ব, নিপীড়ন এবং বর্ণবাদ সহ্য করে আসছে। এখন নতুন করে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে হাজার হাজারের মানুষকে।
ভয়েস ফর জাস্টিস ইউকের সেক্রেটারি কে এম আবু তাহের চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্রিটেনের ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টি ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে বসবাসরত মুসলমানদের সমর্থন হারিয়েছে। ব্রিটেনে শুধু মুসলমান নয়, মানবতাবাদী সকল মানুষ ফিলিস্তিনে নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা ও বর্বরতার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। নিপীড়িত মানুষ পালিয়ে যাওয়ার পথেও হত্যার শিকার হচ্ছে।
ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম সংসদ সদস্য রোশনারা আলী গতকাল (১৬ অক্টোবর) এক বক্তৃতায় ব্রিটেনে দল-মত নির্বিশেষে ইহুদি বিদ্বেষ ও ইসলামভীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
এরইমধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কনজারভেটিভ পার্টির ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের ব্লাকবার্ন কাউন্সিলের একমাত্র মুসলমান কাউন্সিলার আলতাফ টাইগার প্যাটেল।