ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং সুয়েলা ব্র্যাভারম্যানকে ‘নারকেল’ হিসেবে চিত্রিত করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ব্যাপারে আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছিল। মুসলিম সেই শিক্ষিকা মারিহা হোসেন (৩৭) আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের একটি আদালত তাকে জাতিগতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি ও জনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের আইনে অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন।
লন্ডনের সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক ভেনেসা লয়েড রায়ে বলেছেন, এটি একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ধারার অংশ ছিল। এটি কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে, এটি কারও প্রতি অপমানজনক ছিল।
আদালতে মারিহাও দাবি করেছেন, প্ল্যাকার্ডটি ছিল নিছকই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ।
মারিহার আইনজীবী বলেছেন, মারিহা হোসেনের এই মামলাটি স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর একটি বিরক্তিকর আক্রমণ। মারিহা একজন অনবদ্য চরিত্রের নারী, তিনি একজন দায়িত্বশীল এবং চিন্তাশীল নাগরিক। তিনি সত্যিকার অর্থে তার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দুর্দশার কথা চিন্তা করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে প্রস্তুত তিনি।
আদালত ‘নারকেল’ শব্দটি একটি জাতিগত অপবাদ কিনা সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত শুনেছেন।
মারিয়া আদালতকে বলেছেন, তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ফিলিস্তিনন্থি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তার কথায়, ‘আমি এটিকে বিস্ময়কর বলে মনে করি। এটি ঘৃণার বার্তা হিসেবেও কল্পনা করা যেতে পারে।’
অন্যদিকে প্রসিকিউটর জোনাথন ব্রায়ান বলেছিলেন, ‘নারকেল’ শব্দটি একটি সুপরিচিত জাতিগত গালি, যার অর্থ খুব স্পষ্ট। তা হলো ‘আপনি বাইরে থেকে বাদামি হতে পারেন, কিন্তু ভিতরে আপনি সাদা।’