ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক উৎসব গ্রিন্ডাড্রাপ বা গ্রিন্ডের নামে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ৭ শতাধিক তিমি ও ডলফিন। শত শত সামুদ্রিক প্রাণীর এই গণহারে হত্যা করার কারণে সাগরের পানি রক্তাক্ত লাল বর্ণ ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হুক ও ছুরি ব্যবহার করে আটলান্টিক হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন এবং লং-ফিনড পাইলট তিমিদের তাড়িয়ে অগভীর উপসাগরে নিয়ে আসে এবং সেখানে তীরের কাছে এনে এই হত্যাকাণ্ড চালায়।
বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত এনজিও সী শেফার্ড জানিয়েছে, স্কটল্যান্ড থেকে মাত্র ২০০ মাইল উত্তরে গত বুধবার (২৭ মে) তিনটি পৃথক শিকারে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এর মধ্যে রাজধানী তোর্শাভনে ৪০২টি পাইলট তিমি ও ৪টি বটলনোজ ডলফিন, স্কালাবোটনুরে ১৬৮টি হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন এবং ভালভিকে ১৩২টি হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট নিহত সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা ৭০৬টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিকারিদের এই প্রাণীগুলো হত্যা করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যার ফলে আটকে পড়া নিরহ প্রাণীগুলোকে দীর্ঘক্ষণ তীব্র যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এনজিওটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের মাত্রা নজিরবিহীন, যা পুরো গত বছরে এই দ্বীপপুঞ্জে নিহত মোট সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
সংস্থাটি আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের একপর্যায়ে শিকারিদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তিমি শিকারিরা স্বীকার করেছে যে ডলফিন হত্যার জন্য বাধ্যতামূলক স্পাইনাল ল্যান্সের সংকট ছিল। এর ফলে অনেক প্রাণীকে কেবল ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়, যা রক্তক্ষরণে মারা যাওয়ার আগে প্রাণীগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে চরম যন্ত্রণার মধ্যে রাখে।
ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে সী শেফার্ডের প্রচারণামূলক পরিচালক ভ্যালেন্টিনা ক্রাস্ট বলেন, নিরীহ এই প্রাণীগুলোর ওপর যে তীব্র কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কেউ কখনও সমর্থন করতে পারে না। তিনি এই বার্ষিক হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে ইউরোপের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সমর্থকদের মতে, এটি ১ হাজার বছরের পুরোনো ভাইকিং যুগের একটি ঐতিহ্য। তবে তিমির এই গণহারে হত্যা করা প্রাণী অধিকার কর্মীদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা এটিকে একটি বর্বর এবং প্রাচীন প্রথা হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা আধুনিক যুগে টিকে থাকার জন্য মোটেও প্রয়োজনীয় নয়। অপরদিকে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসন এই প্রথার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক চর্চা যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের খাদ্যের জোগান দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি