শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে কারচুপি হচ্ছে এবং তরুণরা তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষেই রাজপথে আন্দোলন করছে।
সোমবারে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের পরদিন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে জানান, কংগ্রেস দল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।
কংগ্রেসের এই সংসদ সদস্য বলেন, সবাই একটি বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পারছে যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, যা বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত ছিল, তা আজ একটি কারচুপিযুক্ত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। আমরা যা জানি তা হলো, গত এক দশকে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় একটি করে প্রশ্নফাঁস হয়েছে।
রায়বেরেলির এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন যে এসব প্রশ্নফাঁসের কারণে ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অথচ এতসব ঘটনার পর প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের একজনেরও সাজা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সাত কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরা মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মানুষ। তারা কষ্টার্জিত অর্থ এখানে বিনিয়োগ করে এবং তারপর তাদের মুখের ওপর থুতু ফেলা হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শূন্য সাজা। গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নফাঁস হয়েছে অথচ একজনও সাজা পায়নি। অর্থাৎ কেউ বা কোনও একটি গোষ্ঠী ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করছে। আর সরকার কী করছে? শূন্য সাজা।
আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার এবং তাদের প্রাপ্য ন্যায্য শিক্ষা ব্যবস্থা দাবি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নামটি তিনি উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন এমনটা ঘটছে? আমাদের শিক্ষার্থীরা আসলে কী ভুল করেছে? তাদের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যাচ্ছে। তারা কী ভুল করেছে? তারা তো শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছে; দাবি জানাচ্ছে; এই দেশ তাদের যা দিতে বাধ্য, তারা সেটাই চাচ্ছে।
বুধবার সংসদে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধী দলের সদস্যদের কালো পোশাক পরে আসার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে রাহুল গান্ধীও ডান হাতে কালো ব্যান্ড বেঁধে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, শিক্ষার্থীদের মারধর ও অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে আচরণ করা হয়েছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

ছাত্রদের আন্দোলন কীভাবে ‘হাইজ্যাক’ করলেন রাহুল গান্ধী
জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক, ভারতের জন্য বড় আঘাত
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে নিরবতা ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়







