রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর দীর্ঘ ছয় বছর পর এ মাসেই পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। বুধবার (২০ আগস্ট) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাময়িকী ‘পিপল’ এবং ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাদের সন্তানরা যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে।
তবে এই বিষয়ে প্রিন্স হ্যারির মুখপাত্র কিংবা বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অবশ্য হ্যারি-মেগান দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ফিরলেও এই দম্পতি কোনও রাজকীয় বাসভবনে বসবাস করবেন না। ২০২০ সালের মার্চে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী তারা অলঙ্কারিক বা দায়িত্ব পালনকারী রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেই থাকবেন।
২০১৮ সালে উইন্ডসর প্রাসাদে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে সাবেক অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন প্রিন্স হ্যারি। কৃষ্ণাঙ্গ মায়ের সন্তান মেগানের সঙ্গে হ্যারির এই বিবাহবন্ধনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ রাজতন্ত্র নতুন প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু অতি দ্রুতই রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। এর দুই বছর পর, ২০২০ সালের মার্চে তারা সব ধরনের অফিসিয়াল দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে অভিজাত এলাকা মোনটেসিটোতে স্থায়ী হন তারা। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেখানে ১৪.৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৬টি বেডরুমের একটি বাড়ি কেনেন তারা।