ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা চরম অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যেকোনও ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, তেল চোরাচালান, সোয়াপ লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজের নিবন্ধন এবং ফ্রন্ট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে লেনদেন- সবকিছু এখনই বন্ধ করতে হবে। আপনারা ভালো করেই জানেন যে কাদের কথা বলা হচ্ছে।
তবে ইরান বা তাদের সঙ্গে ব্যবসা চালানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য আমার চেয়ে বড় সুযোগ আর কেউ দেয়নি। দুঃখজনকভাবে তারা তা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
অবশ্য ইরানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানে ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা গেছে। গত মঙ্গলবারও তিনি ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নন বলে ঘোষণা দেন। অথচ এর পরদিন বুধবারই তিনি জানান, তিনি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও ইরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক বলপ্রয়োগ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অসংখ্য হুমকি দিয়েছেন, আবার পরবর্তীতে নমনীয় হয়ে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে এবার ট্রাম্পের দাবি, এটি হবে ‘নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও লিখেন, আজ আমি ঘোষণা করছি যে, যেসব দেশ ইরানের জন্য যেকোনও ধরনের সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে নিজেদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরকে নিজেদেরও চরম অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও লেখেন, এটি হবে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’। ইরানের হুমকি বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার সব মিত্রকে পাশে চায়।
নির্দিষ্ট কোনও ব্যবস্থার ব্যাখ্যা না দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরানের এসব চরমপন্থীরা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো তাদের স্তব্ধ করে দেবে। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর তাদের সক্ষমতা ধূলিসাৎ করে দেবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির ওপর কিছুটা হলেও নিজেদের কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি থেকে ইরান সরে আসবে- এমন কোনও আভাস এখনও দেখা যায়নি।

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, নতুন উত্তেজনা
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক






