যুক্তরাজ্যের যে বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো পরিচালনা করা হয়, সেই আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের নিকট থেকে তিনটি সন্দেহভাজন ট্রাকসহ পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। রবিবার ভোরে সংঘটিত এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর প্রস্তুতির সন্দেহে আটক রাখা হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রমে নেতৃত্বদানকারী লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনটি সন্দেহভাজন গাড়ি সম্পর্কে একটি কল পাওয়া যায়। গাড়িগুলো স্নায়ুযুদ্ধের আমল থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত ব্রিটিশ মালিকানাধীন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল।
যুক্তরাজ্যের মাটিতে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর হুমকির উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল। এর আগে রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ব্রিটিশ ভূখণ্ডে অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রক্সি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাজ্য। গত মার্চ মাসে কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ইরানসহ শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর কার্যকলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার পর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক চুক্তির আওতায় ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে আমেরিকান বোমারু বিমানগুলো ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে।
ফেয়ারফোর্ডের এই গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত যেকোনও ঘাঁটিই একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গ্রেফতারের সাথে জড়িতদের প্রশংসা করেছেন। শিকাগোতে রবিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটি একটি অসাধারণ কাজ ছিল। আমরা তাদের নজরদারিতে রেখেছিলাম। তারা আমাদের ঘাঁটির বড় ধরনের ক্ষতি করতে চেয়েছিল এবং ব্রিটিশদের সাথে কাজ করাটা দারুণ ফলপ্রসূ হয়েছে।