বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতি নেই। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনও অগ্রগতি হয়নি। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব এখনও অমীমাংসিত। ২০১৫ সালের শুরুতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে তেমনি বিএনপির নেতৃত্বে অবরোধ, একাধিক হরতাল ও ধর্মঘট জনগণের নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে।
তবে প্রথমবারের মতো সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন আয়োজনকে ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রবিবার জরুরি বৈঠক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেক্যুলার লেখক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চাপে ফেলেছে। বাংলাদেশের ব্লগারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার আধিক্য ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সহিংসতার সংস্কৃতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।
এছাড়া, এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে বারবার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন ও গুম নিয়ে অভিযোগের কথা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ের কারণ নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এবং ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতাকারী ইউরোপের অন্যতম দেশ।
আরও পড়ুন: রানা প্লাজা ধস : ক্ষতিপূরণের নামে থোক বরাদ্দ!
প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিস্থিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য কার্যকর বিচার ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন মুক্ত সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজ সফল গণতন্ত্রের জন্য ভিত্তি বলে মনে করে।
/এএ/টিএন/