রবিবার এ দাবি জানায় আইএস। জঙ্গি এ সংগঠনটির অনলাইন সাময়িকি দাবিক-এ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, আরলিংটনে জাতীয় সমাধিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের সমাধির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে ক্যাপশন হিসেবে লেখা আছে, ধর্মত্যাগী হিসেবে মৃত্যুর ব্যাপারে সজাগ হও।
আইএসে যোগ দেওয়া এক বেনামি মার্কিন নাগরিকের লেখা একটি প্রবন্ধে, পশ্চিমা প্রভাব এড়িয়ে মুসলমানদের আইএসের ভূমিতে আসতে উৎসাহ ও একাকি হামলার চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০০৪ সালে বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খান।
ইরাক যুদ্ধে নিহত সেনা কর্মকর্তা হুমায়ুন খানের বাবা খিজির খান বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনে বলেন, সমাধিক্ষেত্রগুলোর দিকে তাকান, যেখানে শুয়ে আছেন সাহসী দেশপ্রেমিকরা। যারা আমেরিকাকে রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে আপনি পাবেন সকল ধর্মের, সকল লিঙ্গের এবং সকল জাতির দেশপ্রেমিকদের যারা দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু দেশের জন্যে আপনার কোনও ত্যাগই নেই।
এ সমালোচনার জবাবে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প খিজির খানের সমালোচনার জবাবে বলেন, মুসলিম হওয়ার কারণেই কনভেনশনে বক্তব্য দিতে পারেননি নিহত সেনার মা। ট্রাম্পের এ বক্তব্যে নতুন করে শুরু হয় বিতর্ক।
এ সমালোচনার জবাবে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প খিজির খানের সমালোচনার জবাবে বলেন, দেশের জন্যে তিনিও অনেক ত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমি হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আমার রয়েছে ব্যাপক সাফল্য। আমি মনে করি আমি অনেক করেছি।
প্রচারণাকালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, খিজির খানের বক্তব্য কার লেখা? হিলারির বক্তব্য যারা লেখেন তারাই কী?
এর আগে খিজির খান বলেছেন, তিনি ও তার স্ত্রী গাজালা মিলে বক্তব্যটি লেখেন।
ট্রাম্পের এ কথার জবাবে গাজালা এবিসি নিউজকে বলেন, গভীর শোকের কারণে ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনে কিছু বলার ইচ্ছে তার হয়নি।
তিনি বলেন, আমি মনে করি না ত্যাগের অর্থ ট্রাম্প বোঝেন। কারণ আমি যখন ওখানে দাঁড়ানো ছিলাম সমস্ত আমেরিকাই আমার কষ্ট অনুধাবন করেছে। একটি কথা না বললেও তারা আমার এ ব্যাথা বুঝতে পেরেছে।
খিজির খান বলেন, আমি তাকে কিছু বলতে বলেছিলাম । কিন্তু তিনি রাজি হননি। কারণ গাজালা জানতেন তিনি কিছু বলতে গেলে খুব আবেগতাড়িত হয়ে পড়তেন।
খিজির খান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমাদের বক্তব্য বোঝার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। তার কোনও ভদ্রতা জ্ঞান নেই। তিনি ভদ্রতা জ্ঞান শূন্য। তার হৃদয় কলুষিত।
শনিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প নিহত ক্যাপ্টেন খানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি আমাদের দেশের হিরো। যারা আমাদের দেশকে নিরাপদ করতে জীবন দিয়েছেন তাদের সবার প্রতি আমাদের সম্মান জানানো উচিত।
এদিকে ট্রাম্প কখনোই মার্কিন সংবিধান পড়েননি খিজির খানের এ অভিযোগও নাকচ করেন রিপাবলিকান এ প্রার্থী।ট্রাম্প বলেন, আমি কখনও সংবিধান পড়িনি লাখ লাখ লোকের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলার কোনও অধিকার খিজির খানের নেই। যদিও তার অভিযোগটি মিথ্যে।
সর্বশেষ নিহত ওয়াশিংটন পোস্টে হুমায়ুনের মা গাজালা খান মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তাতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইসলাম সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন একেবারেই অজ্ঞ।
গাজালা খান লিখেছেন, ‘ওই কনভেনশন স্টেজে আমি যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম আমার ছেলের বড় বড় ছবি আমার পেছনে। ওই সময় কীভাবে যে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছি তা শুধু একজন মা-ই বুঝতে পারবে।ডোনাল্ড ট্রাম্পেরওতো সন্তান আছে, তিনি কি বুঝেননি কেন আমি কথা বলিনি?
তবে, তিনি কথা না বললেও ‘সারা বিশ্ব এবং পুরো আমেরিকা তার কষ্ট বুঝতে পেরেছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ওই কলামে তিনি আরও বলেছেন যে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলাম নিয়ে অজ্ঞের মতো কথা বলেন। তিনি যদি কোরআন ও সত্যিকারের ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেন, তাহলে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে তার ধারণাই পাল্টে যাবে; কারণ সন্ত্রাসবাদ নিজেই একটা আলাদা ধর্ম’।
গাজালা খান আরও লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি নাকি অনেক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি আসলে 'উৎসর্গ' কথাটার সত্যিকারের অর্থই জানেন না। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।
/এএ/