বন্দি বিনিময়ে ইরানকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বন্দিকে মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নগদ ৪০০ মিলিয়ন ডলার নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কিরবি এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, বন্দি বিনিময় নয় পৃথক আলোচনার পর এ অর্থ প্রদান করা হয়। কিন্তু মার্কিন বন্দিরা ইরান ছেড়ে যাওয়ার আগে এ অর্থ দেওয়া হয়নি। তবে দুটি বিষয়ে যোগসূত্র একেবারে খারিজ করে দেননি তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আটক ৫ মার্কিন নাগরিককে সাত ইরানি নাগরিকের বিনিময়ে মুক্তি দেয় তেহরান। ৫ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির দিনই যুক্তরাষ্ট্র বিমানে করে ৪০০ মিলিয়ন ডলার পাঠায় ইরানে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ইরান থেকে বন্দিদের নিয়ে বিমান উড্ডয়নের পরই দেশটিকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করার পরই জন কিরবি এ মন্তব্য করলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুইস এয়ার ফোর্সের একটি বিমানে তেহরান থেকে ৫ বন্দির ৩জনকে নিয়ে উড্ডয়নের আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে অর্থ দেননি।

পারমাণবিক চুক্তির পর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এ অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে।

ইরানকে অর্থ প্রদান ও বন্দি বিনিময়ের ঘটনার সময়ের কারণে দেশটির রিপাবলিকানরা ওবামা প্রশাসনের সমালোচনা করছে। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বন্দিদের মুক্ত করতে মুক্তিপণ দেওয়ার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওবামা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭৯ সালে  ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক আপত্তির অংশ হিসেবেই এ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। আমরা ওই সময়ের সুযোগ নিয়েছি।

হোয়াইট হাউসের দাবিকে পুনরায় উল্লেখ করে জন কিরবি জানান, ১৯৭০ সালে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তির আওতায় ইরানের পাওনা ১.৭ বিলিয়ন ডলারের অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইরানের ক্ষমতা থেকে শাহকে উৎখাতের আগ পর্যন্ত কোনও সামরিক সরঞ্জাম ইরানকে সরবরাহ করা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষতিপূরণে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ইরানকে দিতে রাজি হয়েছেন।

কিরবি জানান, ইরান হয়ত বন্দিদের মুক্তির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা।

এবিসি নিউজকে কিরবি বলেন, সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার আদায় না করাটা বোকামি, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হঠকারী সিদ্ধান্ত হতো। ফলে আপনার যদি জানতে চান যে, এ অর্থ প্রদান ও বন্দি বিনিময়ে কোনও যোগসূত্র আছে কিনা তাহলে আমি তা একেবারে উড়িয়ে দেব না।

এ বিষয়ে কংগ্রেসে শুনানি দাবি করেছেন সিনেটের ব্যাংকিং ন্যাশনাল সিকিউরিটি উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক কির্ক। সূত্র: বিবিসি।

/এএ/