হিলারির ১৫ হাজার ইমেইল খতিয়ে দেখার আদেশ আদালতের

হিলারি ক্লিনটনআসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ১৪ হাজার ৯০০ ইমেইল ও তাতে যুক্ত ফাইল খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতের বিচারক। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করার অভিযোগ তদন্তে এফবিআই এসব ইমেইল শনাক্ত করেছে।

হিলারি ক্লিনটনের এসব ইমেইল প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে একটি গোষ্ঠীর আইনি নোটিশের প্রেক্ষিতে সোমবার এ আদেশ দেন  জেলা আদালতের বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ। কনজারভেটিভদের পর্যালোচনা গ্রুপ জুডিসিয়াল ওয়াচ হিলারির ইমেইল প্রকাশের দাবি জানানোর একদিন পর বিচারক এ আদেশ দিলেন।

জুডিসিয়াল ওয়াচের দাবি, হিলারির ইমেইলে দেখা যায় তাদের পারিবারিক দাতব্য সংস্থার দাতারা তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় তার সাক্ষাৎ চেয়েছেন।

বিচারক যে ১৪ হাজার ৯০০ ইমেইলের কথা উল্লেখ করেছে তাদের এর আগে স্পেট ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করা ইমেইল অন্তর্ভুক্ত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও সরকারি কাজ সংশ্লিষ্ট ইমেইল। এসব ইমেইলের অনেকগুলো পাওয়া গেছে, ক্লিনটন ও তার কর্মীরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

বিচারক আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ইমেইল প্রকাশ করার বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। আবেদনকারীরা তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ৮ নভেম্বরের পূর্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়ছেন হিলারি।

হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা চাওয়ার পর হিলারির ইমেইল ইস্যু জোরালো হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ,অনিরাপদ সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন হিলারি। তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ঘটনাটির তদন্ত করছিল। মঙ্গলবার (৫ জুলাই) এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমে বলেন, হিলারি ক্লিনটন তাঁর ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভারের একশর বেশি ই-মেইলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। এ জন্য হিলারিকে ‘চরম অসাবধান’ বললেও কোনো অভিযোগ করা হবে না বলে জানান জেমস কমে।

এফবিআই জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের জন্য হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ করা হবে না। আর এর মধ্য দিয়ে হিলারি একরকম ই-মেইল কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পেলেন। তবে সোমবার বিচারকের আদেশ নতুন করে ইমেইল বিতর্কে ফেঁসে যাচ্ছেন হিলারি।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকার প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তবে বিচারকের এ আদেশের পর হিলারির জনপ্রিয়তা কমে আসতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যদি নির্বাচনে আগেই বিচারক ইমেইল প্রকাশের রায় দেন তাহলে হিলারির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

রয়টার্সের গত ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চালানো জরিপে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪২ শতাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করছেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে ভোট দেবেন ৩৪ শতাংশ মানুষ। ২৩ শতাংশ ভোটার এ দুজনের কাউকেই ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

রয়টার্সের আগের এক জরিপে ৪১ শতাংশ মানুষ হিলারির পক্ষে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। বাকি ৩৪ শতাংশ জানিয়েছিলেন তাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। আর সাত শতাংশ জনগণ গ্যারি জনসনের পক্ষে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

রয়টার্স/ইপসস  পৃথক আরেকটি জনমত পরিচালনা করে। এতে উত্তরাদাতাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ক্লিনটন, ট্রাম্প, গ্যারি জনসন ও জিল স্টেইনের মধ্যে একজনকে পছন্দ করতে। এ জরিপের ফলে  ৪১ শতাংশ ক্লিনটন, ৩৪ শতাংশ ট্রাম্প, জনসন ৭ শতাংশ ও ২ শতাংশ স্টেইনকে পছন্দ করেন।

প্রচারণার সময় ২০১৬ সালের পুরোটা সময় জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। জুলাই মাস থেকে হিলারির জনসমর্থন ৪১-৪৪ শতাংশে উঠানামা করেছে। আর ট্রাম্পের সমর্থন ছিল ৩৩-৩৯ শতাংশ।

ফল প্রকাশ করা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কিংবা হিলারি, কেউই মার্কিন ভোটারদের উৎসাহিত করতে পারছেন না। দুই তৃতীয়াংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মার্কিন নাগরিকরা মনে করেন, দেশ সঠিক পথে এগুচ্ছে না। সূত্র: রয়টার্স।

/এমপি/এএ/