এনবিসিকে নিউজকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রেইবাস বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো দেশ, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত, সেসব দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি।
তবে প্রেইবাস দাবি করেন, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিকরা পড়বেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাদেরকে কঠোরভাবে যাচাই ও পরীক্ষা করা হবে।
চিফ অব স্টাফ বলেন, আমরা চাই না, এই সাত দেশের মানুষ আমাদের দেশে ফিরে আসুক। যুক্তরাষ্ট্র ও সন্ত্রাসীদের নিজ দেশে তারা মুক্তভাবে চলাফেলা করুক আমরা তা চাই না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শ্যন স্পাইসার দাবি করেছেন, এ নিষেধাজ্ঞায় অল্প কিছু মানুষ পড়েছেন। গতকাল (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেমের ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন। বিপরীতে এই সাত দেশের মাত্র ১০৯ জন মানুষকে সত্যিকার অর্থে আটকানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কাউন্সেলর কেলিয়ানি কনওয়ে স্পেইসারের বক্তব্য সমর্থন করেছেন। তিনি দাবি করেন, অল্প সময়ের এই বিশৃঙ্খলা দেশের নিরাপত্তার জন্য খুবই সামান্য।
এদিকে, রবিবার এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন ‘কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করা যাতে করে দেশটির কোথাও ‘ভয়ংকর কাণ্ড’ এড়ানো যায়। টুইটে একই সঙ্গে ট্রাম্প মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। টুইটে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের প্রয়োজন কঠোর সীমান্ত ও চূড়ান্ত রকমের যাচাই প্রক্রিয়া।
রবিবার সকালে এই টুইট করেন ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প আবার টুইট করেন। এবার মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীরা হত্যার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনেক খ্রিস্টানদের হত্যা করা হচ্ছে। এই নৃশংসতা আমরা চলতে দিতে পারি না।
শুক্রবার সাত দেশের মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্বাহী আদেশ দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দা শুরু হয়। ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংস্থার মধ্যেও এক ধরনের সমন্বয়হীনতা শুরু হয়। প্রথমে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া গ্রিনকার্ডধারীরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই সাত দেশ হলো ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন।
এরপর দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ও শনিবারজুড়ে এ অবস্থা বিরাজ করে। রবিবার দেশটির আদালত ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আংশিক স্থগিত করার আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, অথবা ভ্রমণরত অবস্থায় আছেন; এমন নাগরিকদের বেলায় ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতি প্রয়োজ্য হবে না। বৈধ কাগজপত্রের অধিকারী যারা, তাদের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়িত হবে না। সূত্র: পলিটিকো।
/এএ/