গুয়ানতানামো কারাগারে নির্যাতন জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র: জাতিসংঘ

 

কিউবার বিতর্কিত গুয়ানতানামো বন্দি শিবিরে এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্যাতন নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন অন্যতম ভয়াবহ আন্তর্জাতিক অপরাধ। জার্মানির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে-র এক খবরে এ কথা জানা গেছে।

কুখ্যাত গুয়ানতানামো বন্দি শিবির

জাতিসংঘের বিশেষ দূত নিলস মেলজার গুয়ানতানামো শিবিরে নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আমর আল-বালুচির বিষয়টির দিকে আবারও মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় মোট ১৫৩ বার আমর আল-বালুচির প্রসঙ্গ আসে। নাইন-ইলেভেন হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত আমর আল-বালুচি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুয়ানতানামোতে আটক রয়েছেন।

নিলস মেলজার বলেন, ‘অভিযোগ, অত্যাচার, শব্দ ও ভাইব্রেশন দিয়ে নির্যাতনের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ায় ঘুম না হওয়া ও শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা জন্য তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা তো পাচ্ছেন না। এখনও এ সব অত্যাচার চলছে তার উপর।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর সন্দেহভাজন বিদেশি বন্দিদের জন্য প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এই শিবির চালু করেছিলেন। অভিযোগ-পত্র ছাড়া বন্দিদের বছরের পর বছর আটকে রাখা ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার কারণে কুখ্যাত এই বন্দি শিবিরটি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে এটি বন্ধ করার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের একদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এটা (বন্দি শিবির) এখনও কাজে আসছে।’ ২০১৪ সালে গুয়ান্তানামো বন্দি শিবির নিয়ে ওই সময়কার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে ট্রাম্প একটি টুইট বার্তায় লিখেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উপর যদি আক্রমণের আশু আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে বারাক ওবামা কি তাদের নির্যাতন করবেন নাকি চুমু খাবেন?’

নিলস মেলজার আরও বলেন, ‘সিআইএ-র হেফাজতে বন্দিদের উপর নির্যাতনের বিচার না করে যুক্তরাষ্ট্র নির্যাতনবিরোধী অবস্থানের সরাসরি লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে। নিজ দেশের কর্মকর্তাসহ সারা বিশ্বের প্রতি এ কাজ করেও শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার ভয়াবহ এক বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম মৌলিক বিষয় এবং এর ব্যত্যয় অন্যতম গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ। এককথায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য।’

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে গুয়ানতানামো বন্দি শিবিরে এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর বেন সাক্রিসন বলেন, ‘এর আগেও এ ধরনের অভিযোগের পর তদন্ত চালানো হয়েছে এবং এ সব দাবির পক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’