যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকায় হাফিজ সাঈদের দল, ভারতের সন্তোষ

হাফিজ সাঈদের দল মিল্লি মুসলিম লিগকে (এমএমএল) সন্ত্রাসি সংগঠন ঘোষণা হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগঠনটি আসলে ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়্যেবারই (এলইটি) একটি নতুন শাখা। ২০১১ সাল থেকে নিষিদ্ধ লস্কর-ই-তাইয়্যেবা নজরদারি এড়িয়ে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে এমন নতুন নাম ব্যবহার করছে। যতদিন না পর্যন্ত তারা সন্ত্রাসের পথ পরিহার করবে ততদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তাদের বক্তব্য, সন্ত্রাসি সংগঠনগুলোর মূলোৎপাটন ও তাদের অর্থায়ন বন্ধের যে দাবি পাকিস্তান করে তা যে অসত্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল। ভারত আগে থেকেই দাবি করে আসছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নাম বদলে পাকিস্তানে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিল্লি মুসলিম লিগ পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেব নিবন্ধিত হওয়ার আবেদন করেছিল।

655765-hafizsaeedreuters970

মিল্লি মুসলিম লিগ যাত্রা শুরু করেছিল গত বছর। তাদের সঙ্গে তেহরিক-ই-আজাদি-ই-কাশ্মির (টিএজেকে) নামের সংগঠনটিকেও সন্ত্রাসি দল ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টিএজেকেকে লস্কর-ই-তাইয়্যেবারই একটি শাখা মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, যারা পাকিস্তানের ভেতর কোনও বাধা ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, লিখেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়্যেবা যাতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে নতুন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে না পারে সেজন্যই মিল্লি ও টিএজেকেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস দমন বিভাগের সমন্বয়ক নাথান এ সেলস বলেছেন, ‘এমএমএল এবং টিএজেকে উভয়ই লস্কর ই তাইয়্যেবারই সংগঠন। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আজ চালিয়া যাওয়ার জন্যই নতুন নাম নিয়েছে তারা। সংগঠনটি যেন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ড করার সুযোগ না পায় এবং সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা না দিতে পারে সেজন্যই আজ এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হলো।

লস্কর-ই-তাইয়্যেবাকে বিদেশি সন্ত্রাসি সংগঠন (এফটিও) এবং স্পেশিয়ালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট (এসডিজিটি) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কাজ করতে এলইটি বছর বছর নাম পরিবর্তন করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, ‘তারা যে নামই গ্রহণ করুক না কেন তারা একটি ভয়ংকর সন্ত্রাসি সংগঠন। যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা সমর্থন আদায়ে সন্ত্রাস ব্যবহারের পথ পরিহার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল প্রতিরধ্মূলক ব্যবস্থাই নেবে।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেছেন, ‘লস্কর-ই-তাইয়্যেবার সহযোগী মিল্লি মুসলিম লিগকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে ভারত। লস্কর-ই-তাইয়্যেবা পাকিস্তানভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আর হাফিজ সাঈদের সংগঠন তাদের পক্ষ হয়েই কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার যে অভিযোগ ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করে আসছে তা যথার্থ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এমএমএলকে সন্ত্রাসি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করানোর পাকিস্তানী দাবি অসত্য। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি গুড়িয়ে দেওয়া ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ করতেও ব্যর্থ পাকিস্তান।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে আগামী জুলাই মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে মিল্লি মুসলিম লিগকে অনাপত্তিপত্র আনতে বলেছিল পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। কারণ এমএমেএল রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার আবেদন করেছিল। ওই প্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সিদ্ধান্ত নিল। আর আহফিজ সাঈদ নিজে লস্কর-ই-তাইয়্যেবার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং জামাত-উদ-দাওয়াহ নামক সংগঠনের প্রধান। দুটি সংগঠনই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত। এবার মিল্লি মুসলিম লিগ নাম নিয়ে সামনে এসেছিলেন হাফিজ সাইদ। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।