নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন কর্মকর্তা

পারমাণবিক কর্মসূচি বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও উত্তর কোরিয়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে এক অজ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন। এই মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে যেসব স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করেছিল সেখানে সক্রিয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

_102768727_north_korea_missiles_640-nc

জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় নেতাই পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরেণ কাজ করতে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ট্রাম্প জানান উত্তর কোরিয়া এখন আর পারমাণবিক হুমকি নয়। তবে এই বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারায় দেশের সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

সোমবার মার্কিন সংবাদমধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, উত্তর কোরিয়া হয়ত একটি বা দুটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) নির্মাণে কাজ করছে। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানুমডং পারমাণবিক ক্ষেত্রে এই কাজ চলছে।

এই পারমাণবিক ক্ষেত্রটিতেই হওয়াসং-১৫ নামের উত্তর কোরিয়ার প্রথম আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছিল পিয়ংইয়ং।

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তরল জ্বালানির আইসিবিএম কোনও হুমকি নয়। এছাড়া স্যাটেলাইট ছবির বরাতে রয়টার্স জানায়, ওই পারমাণবিক ক্ষেত্রে যানবাহনের চলাচল করতে দেখা গেছে। কিন্তু তা ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের মতো বড় আকারের কর্মযজ্ঞ নয়।

বিবিসি জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরে বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকার খবর বা দাবি এই প্রথম নয়। এই কারণে ওই বৈঠকের অর্জন নিয়ে সংশয় ও দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ জেফরি লুইস জানান, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে পারমাণবিক স্থাপনাটি সক্রিয় আছে। এটা একেবারে ধ্বংস হয়নি। আমরা দেখছি পরিবহন কন্টেইনার ও যানবাহন আসছে ও যাচ্ছে। এখানেই আইসিবিএম ও রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

অপর এক উত্তর কোরীয় বিশেষজ্ঞ মেলিসা হ্যানহাম বিবিসিকে জানান, ওই স্থাপনায় যানবাহনের যাতায়াত নিয়মিত। সিঙ্গাপুরে বৈঠকের আগেও এমনটাই ছিল। যার অর্থ বৈঠকের সময়ও তা একেবারে বন্ধ করা হয়নি।

বিবিসি লিখেছে, গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কিছু অংশ ধ্বংস করেছিল বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে পিয়ংইয়ং এখনও হয়ত গোপণে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালু রেখেছে।