অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে দায়মুক্তি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-আরএসএফ। শনিবার এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা প্যারিসভিত্তিক সংগঠনটি দাবি করেছে, এ ধরনের দায়মুক্তি হবে সৌদি সরকারকে হত্যাকাণ্ডের লাইসেন্স দেওয়ার সামিল।
গত ২ অক্টোবর খাশোগি নিখোঁজের পর থেকেই সৌদি আরব দাবি করে আসছিলো, তিনি ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশটি স্বীকার করে, খাশোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের কথাও জানায় দেশটি।
শনিবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জামাল খাশোগিকে দূতাবাসের মধ্যেই হত্যার কথা স্বীকার করার পর সৌদি আরবের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। খাশোগির হত্যা ও আটক অপরাপর সাংবাদিকদের আটক করে রাখার বিষয়ে রিয়াদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সাধারণ সম্পাদক ক্রিস্টোফার ডেলোয়ের টুইটারে লিখেছেন, ‘সৌদি আরবকে চাপ থেকে মুক্তি দেওয়া ও কোনও ধরনের আপোষ–সমঝোতা তাদেরকে হত্যার লাইসেন্স পাইয়ে দেবে। দেশটি সাংবাদিকদের অপহরণ, কারাবন্দি এমনকি হত্যা পর্যন্ত করে। খাশোগির হত্যার প্রতিক্রিয়ায় আমরা প্রত্যাশা করি, ওই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ সত্য উন্মোচন ও সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ভয়ঙ্কর ও উন্মত্ত সাজার ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য দেশটির ওপর শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্টভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যহত রাখা হবে।’
বিবৃতিতে সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটর দাবি করেন, সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়। আর তাতেই খাশোগির মৃত্যু হয়। সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো অভিযানটির পরিকল্পনা করেন জেনারেল আসিরি এবং কাহতানি সবকিছু জানতেন। কাহতানিই ঘটনাটিকে সহিংসতা পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছেন। ঘটনার জের ধরে এরইমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান আহমাদ বিন হাসান আসিরি ও রাজপরিবারের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ আল কাহতানিকে বরখাস্ত করেছে সৌদি আরব।
নিউ ইয়র্ক টাইমস ওই ভাষ্য প্রসঙ্গে বলছে, রাজ পবিরারের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা দিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায় যুবরাজের ঘনিষ্ঠরা খাশোগি হত্যায় আসিরির ওপরে দায় চাপাতে চাইছে। টাইমস তাদের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে জানিয়েছিল, আসিরিকে বলির পাঠা বানিয়ে যুবরাজকে রক্ষা করতে চাইছে সরকার।
সৌদি দাবির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ সংঘর্ষের পর খাশোগি নিহত হয়েছেন বলায় তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সংস্থার পক্ষে রাওয়া রাঘে শনিবার বলেছেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাসহ অন্যান্য সংগঠনের কাছে এটা স্পষ্ট যে কী ঘটেছে তা জানা এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত অপরিহার্য। তদন্তের নামে যেন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করা হয়, তা নজরে রাখবে সংস্থাটি।