করোনাভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল দেশটিতে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হতে পারে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অর্থনীতি চালু করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার তিন ধাপে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি সচল করার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুসারে, করোনার সংক্রমণ কম এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে তিন ধাপে অর্থনীতি পুনরায় উন্মুক্ত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১০১ জন। যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার।
বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আমাদের পরবর্তী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করা। তিনি বলেন, আমেরিকা সচল হতে চায়, আমেরিকানরা সচল দেশ চান। দেশজুড়ে শাটডাউন টেকসই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না।
ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘ লকডাউনের কারণে জন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে এবং মাদক, হৃদরোগ ও অন্যান্য শারিরিক ও মানসিক সমস্যার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই মাসে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি পুনরায় চালু হতে পারে।
ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ট্রাম্পের কার্যালয় হোয়াইট হাউস ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি সচল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও আক্রান্তের সংখ্যা কম এমন ৯টি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি সচল করা হবে। হোয়াইট হাউস ভাইরাস টাস্কফোর্স সমন্বয়কারী ড. ডেবোরাহ বার্কস জানান, এই ৯টি অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও কম এবং প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও কমছে।
ট্রাম্প দ্রুত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিটি আবারও খোলার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পহেলা মে দেশের এমন কিছু রাজ্যের অর্থনীতি খুলে দিতে চাইছেন যেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে নিউইয়র্ক মহানগরীর মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি। করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্র এবং এর অর্থনীতির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে যার ফলে গত চার সপ্তাহে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।
ড. ডেবোরাহ বার্কস ওই ৯টি অঙ্গরাজ্যের নাম উল্লেখ না করলেও স্বল্প জনবহুল রাজ্যগুলোর কথা উল্লেখ করেন যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো আটলান্টিক উপকূলীয় রাজ্য মেইন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাওয়াই, পূর্ব আমেরিকার ভার্মন্ট ও পশ্চিম ভার্জিনিয়া, দক্ষিণাঞ্চলের আরকানসাস, মধ্য-পশ্চিমের নেব্রাস্কা, উত্তরে ডাকোটা এবং পশ্চিমের মন্টানা ও ওয়াইয়োমিং।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে ফেলেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে আমরা নতুন আক্রান্তের সর্বোচ্চ পর্যায় পার করেছি। আশা করছি এটা চলতে থাকবে আর আমরা বিপুল অগ্রগতি করতে থাকবো।’