যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মানবসৃষ্ট বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটি বলেছে, এই মহামারির উৎস আক্রান্ত পশু না চীনা ল্যাবে দুর্ঘটনা, তা এখনও খতিয়ে দেখছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের এই বিবৃতি এমন সময় প্রদান করা হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা দাবি করছেন, চীনে করোনাভাইরাসের বিস্তার হয়েছে উহানের একটি সংক্রামক রোগের ল্যাব থেকে। এই দাবি এখনও প্রমাণিত হয়নি। করোনা মহামারিতে বিশ্বে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ লাখের বেশি মানুষ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক ধারণার সঙ্গে গোয়েন্দা সম্প্রদায় একমত যে, কোভিড-১৯ ভাইরাস মানবসৃষ্ট বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত নয়। আক্রান্ত পশু বা উহানের ল্যাবে দুর্ঘটনায় ভাইরাসটির বিস্তার সম্পর্কে যে তথ্য সামনে আসছে তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবে গোয়েন্দা সম্প্রদায়।
এই বিবৃতি একই দিন প্রকাশিত হলো যেদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের চাপ দিচ্ছেন করোনার বিস্তারে চীনকে জড়িত করার জন্য, যাতে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় মহামারির জন্য চীনকে দায়ী করা যায়।
গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চাপের ফলে সংস্থাগুলো রাজনৈতিক কারণে তাদের মূল্যায়ন বিকৃত করতে পারেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে টানাপড়েন তার মেয়াদের শুরু থেকেই। ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ‘গুপ্ত রাষ্ট্র’।
চীনের ল্যাব থেকে দুর্ঘটনাবশত করোনার বিস্তার সম্পর্কে এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘বারবার এবং বারবার আমরা এই ঘটনার কথা শুনছি’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা উত্তর জানি না। কারণ, চীন আমাদের জানাচ্ছে না। আমি মনে করি এটি হতে পারে’। অন্য দেশের বিশেষজ্ঞদের চীনা ল্যাবে প্রবেশের অনুমতির জন্য চাপ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যাতে ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস স্বাভাবিকভাবেই বাদুড়ে জন্ম নেয়। তবু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা সায়েন্স অ্যাকাডেমি পরিচালিত একটি ইনস্টিটিউটের দিকে আঙুল তুলছেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি সার্স ভাইরাসের উৎস, নতুন ব্যাট ভাইরাসের সন্ধান ও কীভাবে তা মানুষে সংক্রমিত হয় তা নিয়ে গবেষণায় বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে।
বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা ২০১৮ সালে উহানের ল্যাবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে দুই বছর পরও ল্যাব থেকে কোনও ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ হাজির করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার চীন জানিয়েছে, ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস বিস্তারের দাবি ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণরূপে মনগড়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইউয়ান ঝিমিংকে উদ্ধৃত করে বলেন, ল্যাবটি কঠোরভাবে বায়োসিকিউরিটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে। ফলে এতে ভাইরাস অণুজীবের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাবে।
জেং বলেন, আমি আবারও বলতে চাই, ভাইরাসের উৎস বের করা একটি জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় এবং তা বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের গবেষণা করা উচিত।
বৈশ্বিক মহামারির জন্য চীনকে জবাবদিহির মুখে আনতে মার্কিন রাজনীতিকদের বক্তব্যের সমালোচনা করে জেং বলেছেন, তাদের উচিত নিজের দেশে মহামারি ঠেকাতে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া।