এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ পড়ছে হুথি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানান, নিষিদ্ধ তালিকা থেকে হুথিকে বাদ দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির স্বীকৃতি। তবে হুথি সদস্যদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

হোয়াইট হাউজে নিজের শেষ পূর্ণ কর্মদিবসে হুথিকে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের উদ্যোগ নেন জে বাইডেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, সন্ত্রাসী তালিকা থেকে হুথির তিন শীর্ষ নেতার নামও বাদ দেওয়া হবে। এটিও আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হবে। এই তিন নেতা হচ্ছেন আবদুল মালিক আল হুথি, আব্দ আল খালিক বদর আল হুথি এবং আবদুল্লাহ ইয়াহিয়া আল হাকিম। তবে অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ওয়াশিংটন হুথি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। নিষেধাজ্ঞার নতুন টার্গেট চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইয়েমেনের প্রায় আড়াই কোটি জনগণের মধ্যে ৮০ শতাংশেরই জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। দেশটির এই পরিস্থিতিকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বাজে মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তবে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ গত ১৯ জানুয়ারি হুথিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে হুথির সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেন পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দমনে ইয়েমেনে প্রবেশ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। লড়াইটি ইয়েমেনি সহিংসতা হিসেবে দেখালেও আদতে সেটি ইরান-সৌদির ছায়াযুদ্ধ হিসেবে মনে করা হয়। এতে বরবরই পূর্ণ সমর্থন ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন সহিংসতায় সব পক্ষই যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধপরাধের মতো গুরুতর অপরাধ হচ্ছে।