উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, উসকানি মনে করেন না বাইডেন

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন। চীন ও উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলা কীভাবে করা যাবে, তা নিয়েই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এরপরেই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। যদিও বাইডেন, এই উৎক্ষেপণকে উসকানি বলে মনে করছেন না। আর মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর পরেও তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। ব্রিটিশ সংবামাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়, রবিবার উত্তর কোরিয়া দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। সেগুলো ছিল স্বল্প পাল্লার। তাদের মাথায় নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ছিল না। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়া প্রায়ই এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে।

এই বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাইডেন মঙ্গলবার রাতে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কিছুই পাল্টায়নি।

এই উৎক্ষেপণকে উসকানি মনে করেন কিনা জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুসারে, এইট নিয়মিত ঘটনা। তাই উসকানি মনে করি না।

এর আগে গত অক্টোবরে ‘দৈত্যাকার আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত বড় আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বে আর নেই।

উত্তর কোরিয়া যাতে আর পরমাণু অস্ত্র না বানায়, সেজন্য তাদের অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গতবছর হ্যানয়ে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্র এর পরেও কূটনৈতিক পথে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাদের পরমাণু অস্ত্রগুলো ধ্বংস করে ফেলতে অনুরোধ করে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা ছিল, উত্তর কোরিয়া গোপনে পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে চলেছে।

২০১৭ সালে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। সেই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও স্থানে আঘাত হানতে পারে।