বন্দিবিনিময় নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

অজ্ঞাত কারণে তেহরান থেকে ছাড়েনি মার্কিন বন্দিদের বিমান

বন্দি বিনিময়ের আওতায় তেহরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে ইরান। শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি সাত ইরানি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার পর তেহরান পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়। তবে রবিবার সকালে মুক্তি পাওয়া মার্কিন নাগরিকদের বিমানযোগে যুক্তরাষ্ট্র ফেরার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে বিমানটি ছাড়েনি।

মুক্তি পাওয়া পাঁচ মার্কিন নাগরিক হলেন, ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জেসন রেজাইন, প্রবীন নৌসেনা আমির হেকমতি, খ্রিস্টান যাজক সাঈদ আবেদিনি, মার্কিন কর্মকর্তা নসরাতুল্লাহ খোসরাবি। এই চারজনই তেহরানে আটক ছিলেন।  ৫ম বক্তি ম্যাথিউ ট্রেভিথিক নামে এক শিক্ষার্থী।  ম্যাথিউকে আলাদাভাবে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তা।

এই পাঁচ মার্কিন নাগরিককে আলাদা অভিযোগে ২০১১ সালের প্রথম দিকে আটক করা হয়েছিল।

এর আগে সাত ইরানি নাগরিককে মুক্তি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ ভঙ্গের দায় তারা অন্তরীণ ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জানান,এক বছর ধরে গোপন আলোচনার ভিত্তিতে এ বন্দিবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি বন্দিবিনিময়কে তরান্বিত করেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,যুক্তরাষ্ট্র আরও ১৪ ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তুলে নিতেও সম্মত হয়েছে।

এদিকে,রবিবার সকালে মুক্তি পাওয়া মার্কিন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অপেক্ষায় ছিলেন তেহরান দিলে বন্দিরা রওয়ানা দিলে তিনি ঘোষণা দেবেন।

শনিবার পারমাণবিক চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পর ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে বন্দিবিনিময় হলো।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ইরানের সামনে হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য উন্মুক্ত হবে। সেই সঙ্গে মুক্ত হবে তাদের তেলের বাজার। প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনার পর গত বছর জুলাইয়ে বিশ্ব ছয় শক্তি যু্ক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয় ইরান। চুক্তি অনুযায়ী ইরান আগামী অন্তত ১০ বছরের জন্য নিজেদের পরমাণু সমৃদ্ধিকরণ কমিয়ে আনবে। বিনিময়ে তাদের উপর থেকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ওই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুরুতে বিরোধিতা করলেও পরে ওই চুক্তিতে সমর্থন দেন। ছয় বিশ্বশক্তির তরফেও চুক্তিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট

/এএ/বিএ/