আইএসবিরোধী মার্কিন জোটের অনেক শরিক দেশ নিষ্ক্রিয়

সিরিয়া ও ইরাকে সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অনেক শরিক দেশ নিষ্ক্রিয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক খবরে এ কথা জানা গেছে।

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্টার বলেন, অনেক শরিক দেশ ঠিকমতো অথবা একেবারেই অংশ নিচ্ছে না। আমরা নিজেরাই অনেক কিছু করতে পারি... (কিন্তু) আমরা চাই অন্য দেশগুলো তাদের ভূমিকা পালন করুক।

ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে কার্টার বলেছেন, আইএসবিরোধী জোটকে ‘তথাকথিত’ জোট হিসেবে উল্লেখ করেন। জোটের শরিক দেশগুলো বিশেষ করে সুন্নি আরব দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে হতাশ পেন্টাগণ। তিনি বলেন, জোটের অন্যদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত, আইএস অধ্যুষিত এলাকায় কোনও মুক্ত জঙ্গি থাকতে পারবে না।’

সাক্ষাৎকারে আইএসবিরোধী লড়াইয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রশংসা করেন কার্টার।

গত সপ্তাহ কার্টার ইউরোপে কাটান। প্রথমে তিনি প্যারিসে ইউরোপের জোটভূক্ত দেশগুলোকে পদপেক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানান। আগামী মাসে একই আহ্বান নিয়ে জোটের অপর ২৬টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

২০১৪ সালের গ্রীষ্ম থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় অন্তত ৯ হাজার ৮০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বে ৬৫টি দেশ নিয়ে সামরিক জোট গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। গত নভেম্বরে প্যারিস হামলার পর ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য আইএসের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, জর্ডান, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাও আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। আরও বেশ কিছু দেশ স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছে।

সৌদি আরবসহ আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এ জোটে থাকলেও তারা মূলত ইরান সমর্থিত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

/এএ/