গত ছয় মাসে প্রায় ৪০টি বাড়িতে হানা দেওয়া বিশাল আকৃতির একটি ভালুককে খুঁজছে মার্কিন পুলিশ। হ্যাঙ্ক দ্য ট্যাঙ্ক কালো ওই ভালুকটির বিরুদ্ধে এরইমধ্যে ১৫০টিরও বেশি কল পেয়েছে পুলিশ। ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাডা সীমান্তের লেক তাহো অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীটিকে ধরতে গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ওয়ান্টেড তালিকাতেও উঠে এসেছে হ্যাঙ্ক দ্য ট্যাঙ্কের নাম। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভালুকটি যেসব বাড়িঘরে হানা দিয়েছে তার কোনও কোনওটিতে সে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। গত গ্রীষ্মের পর থেকে ভাঙচুর চালিয়েছে কয়েক ডজন ঘরবাড়িতে।
হ্যাঙ্ক দ্য ট্যাঙ্কের ওজন প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজি। স্বাভাবিক আকারের যেকোনও ভালুকের চেয়ে এ ওজন ঢের বেশি। দৃশ্যত, খাবারের অভাব না হওয়ায় এ বছর শীতনিদ্রায় যায়নি ভালুকটি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রাণীটিকে যন্ত্রণাহীনভাবে চিরনিদ্রায় ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা ভালুকটি লোকালয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
বন্যপ্রাণী সংগঠনগুলো অবশ্য বলছে, ভালুকটিকে যেন কোনও অভয়ারণ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।
হ্যাঙ্কের তাণ্ডব থেকে বাদ পড়ছে না তালাবদ্ধ ঘর থেকে শুরু করে বসতবাড়িও। সর্বত্রই হানা দিচ্ছে সে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের মুখপাত্র পিটার টাইরা। তিনি জানান, ‘নিজের বিশাল শরীর ও শক্তি ব্যবহার করে ভালুকটি লোকজনের বাড়িতে ঢোকার কায়দা রপ্ত করে ফেলেছে। গ্যারেজের দরজা, সামনের দরজা, এমনকি জানালা দিয়েও সে ঢুকে পড়তে পারে।’
রাজা হেনরির মতোই যেন বিশালাকৃতির শরীর আর কালো পশমি কোট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে হ্যাঙ্ক দ্য ট্যাঙ্ক। এমন আকার আকৃতির জন্যই হয়তো এটিকে ‘কিং হেনরি’ নামে সম্বোধন করছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
সাধারণত বিন ব্যাগ মিউনিশন, সাইরেন এবং ড্রাই ফায়ারিং পুলিশ টিজার (ভালুক অপছন্দ করে এমন শব্দ তৈরি করে) ইত্যাদি ব্যবহার করে ভালুককে কাবু করা হয়। কিন্তু প্রচলিত এমন কোনও নিয়মই হ্যাঙ্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। তাকে নিবৃত্ত করার যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিয়ার লিগ নামের স্থানীয় একটি সংগঠন ভালুক নিয়ে কাজ করে থাকে। হ্যাঙ্কের মাত্রাতিরিক্ত ওজন বাড়ার জন্য প্রাণীটির মানুষের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়াকে দায়ী করছে তারা। তবে তাদের পরামর্শ, মেরে ফেলার বদলে কর্তৃপক্ষ যেন এটিকে নিরাপদে কোনও অভয়ারণ্যে পাঠিয়ে দেয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের মুখপাত্র পিটার টাইরা বিবিসিকে বলেন, ‘হ্যাঙ্ক অন্যান্য বন্য ভালুকের মতো পিঁপড়া বা বেরি ফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাহোতে বছরজুড়েই পিজ্জা, আইসক্রিম এমনকি আবর্জনা ঘাঁটলেও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত অনেক খাবার পাওয়া যাবে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় গাছের গুঁড়ি খাওয়ার চেয়ে এগুলো পাওয়া ঢের সহজ।’
সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের সঙ্গে আলাপকালে টিম জনসন নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘৪০ বছর ধরে এই শহরে বসবাস করছি। আগে দরজা বন্ধ করে না রাখলেও এখন রাখতে হয়।’ সূত্র: বিবিসি।