যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার ছেলে হান্টার বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা করেছেন। হান্টার দুটি ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং শাস্তি ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। রবিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাইডেন বলেন, তার ছেলেকে ‘লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে’ এবং এই মামলাগুলোকে ‘ন্যায়বিচারের অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে ছেলের বিচারকাজে হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
হান্টার বাইডেন এ বছরের শুরুতে মাদক সেবন ও অস্ত্রের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এ ছাড়া কর ফাঁকির ঘটনাতেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তাঁর কারাদণ্ড হয়নি।
বাইডেন বারবারই বলে এসেছেন, তিনি ছেলেকে ক্ষমা করবেন না। গতকাল মত বদলের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। বলেছেন, যদিও তিনি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন, কিন্তু রাজনীতি এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে এবং তা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তখন আর দেরি করার কোনো যুক্তি ছিল না।’
‘আমি আশা করি আমেরিকানরা বুঝতে পারবেন কেন একজন পিতা এবং একজন প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান’, বাইডেন বলেন।
এর আগে তিনি বলেছিলেন, তিনি বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবেন না। ছেলেকে উদ্দেশ্যমূলক ও অন্যায়ভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে দেখেও তিনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি বলে জানিয়েছেন।
কংগ্রেসে বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের উসকানিতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেন বাইডেন। নির্বাচনে বাইডেনের বিরোধিতা করতেই বিরোধী দলগুলো এমন উসকানি দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে নথি জালিয়াতি ও কর ফাঁকির নয়টি মামলায় দোষ স্বীকার করেন হান্টার বাইডেন। এই অভিযোগে তিনি সর্বোচ্চ ১৭ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমিখি। তার সাজা ঘোষণার শুনানি ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া বন্দুক–সংক্রান্ত আলাদা আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় বাইডেনপুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮ সালে উইলমিংটনের আগ্নেয়াস্ত্রের একটি দোকান থেকে তিনি একটি রিভলবার কিনেছিলেন। আগ্নেয়াস্ত্রটি কেনার সময় তিনি ফেডারেল কাগজপত্রে দেওয়া তথ্যে নিজের মাদকাসক্তির কথা গোপন করেছিলেন। এ ঘটনায় হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
প্রথম অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সময় মিথ্যা তথ্য দেন হান্টার। দ্বিতীয় অভিযোগ, অস্ত্র বিক্রেতার নথিপত্রেও মিথ্যা তথ্য থাকার বন্দোবস্ত করেন তিনি। আর তৃতীয় অভিযোগ, হান্টার বাইডেন অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন। হান্টার সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই দোষে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের সাজা হতে পারে, যদিও হান্টারের ক্ষেত্রে ১৬ মাসের কম শাস্তি আশা করা হচ্ছিল।
৫৪ বছর বয়সী হান্টার হান্টারই প্রথম কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে, যিনি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। জো বাইডেনের একমাত্র জীবিত সন্তান তিনি।
হান্টার স্বীকার করেছেন যে, কিশোর বয়স থেকেই তিনি মদ্যপান শুরু করেছিলেন এবং কলেজে পড়ার সময় কোকেন ব্যবহার করতেন। এরপর থেকে তিনি বেশ কয়েকবার পুনর্বাসন কেন্দ্রেও গেছেন।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের এমন ক্ষমা প্রদর্শনের উদাহরণ রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কোকেন-সংক্রান্ত মামলায় তার সৎভাইকে ক্ষমা করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার আগের মেয়াদে কর ফাঁকির মামলায় মেয়ে ইভাঙ্কার শ্বশুর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার্লস কুশনারকে ক্ষমা করেন। আর এই মেয়াদে তাকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন ট্রাম্প।