মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ‘রেগে গেছেন’। মস্কো যদি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তাহলে তিনি রুশ তেলের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রবিবার (৩০ মার্চ) এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ থবর জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইউক্রেনে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য আমি ও রাশিয়া যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, আর যদি মনে করি যে এটা রাশিয়ার ভুলের কারণে হয়েছে... তাহলে রাশিয়া থেকে আসা সব জ্বালানি তেলের ওপর দ্বিতীয় ধাপে শুল্ক আরোপ করব।’
তিনি জানান, ২৫ শতাংশ শুল্ক যে কোনও মুহূর্তে কার্যকর হতে পারে এবং তিনি এই সপ্তাহেই পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন।
এনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন এবং ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন ট্রাম্প ‘রাগান্বিত এবং ক্ষুব্ধ’ হন।
বৃহস্পতিবার পুতিন প্রস্তাব দেন যে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী প্রশাসন গঠন করা উচিত। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
রুশ কর্মকর্তারা বারবার জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে কোনও নির্বাচন হয়নি। ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা যায় না, যা রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে গত তিন বছর ধরে বলবৎ রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে মস্কো থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে, এসব নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা জোরদার করার জন্য আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে একদিনের বৈঠকের পর এসেছে।