পাকিস্তানের টিআরএফকে কেন ‘ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র?

দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সংগঠনটি পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, গত ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামেও পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ পেহেলগামে হামলার দায় প্রথমে স্বীকার করলেও কয়েকদিন বাদে তা অস্বীকার করে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই লস্কর-ই-তৈয়বাকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোতেও হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে অভিযুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে তিনদিনব্যাপী প্রাণঘাতী হামলা।

এক বিবৃতিতে রুবিও জানান, টিআরএফকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পেহেলগামে হামলার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিকে’ সমর্থন করেছে।

২০১৯ সালে গঠিত টিআরএফ লস্কর-ই- তৈয়বার ‘ছদ্মবেশী ও প্রতিনিধি সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রুবিও । দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টালের ভাষ্য, টিআরএফ লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা।

ভারত এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে একে ‘ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার একটি দৃঢ় প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

পাকিস্তান বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের নিন্দা করে’। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যেকোনো সংযোগের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ এটি একটি নিষিদ্ধ ও কার্যত বিলুপ্ত সংগঠন।’

এপ্রিলের ওই হামলার পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়—যা বহু দশকের শত্রুতাকে নতুন মাত্রা দেয়। নয়াদিল্লি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। যদিও ইসলামাবাদ দায় অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র হামলাটির নিন্দা করলেও সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক ও ‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনের লেখক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, টিআরএফকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেখিয়েছে যে তারা ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণ হওয়া সন্ত্রাসী হামলাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং টিআরএফের সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার সম্পৃক্ততার ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক কঠিন সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের জন্য এই পদক্ষেপ সহায়ক হতে পারে।’