নৈশভোজে জড়ো হওয়া স্বজনদের গুলি করে হত্যা, শিশুসহ নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংস শহরের বাইরে একটি বাড়িতে পারিবারিক নৈশভোজে জড়ো হওয়া স্বজনদের ওপর গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। পরে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার পর আত্মঘাতী গুলিতে ওই ব্যক্তিও মারা যান। বুধবার (২৬ আগস্ট) মন্টানা অঙ্গরাজ্যের পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

মঙ্গলবার পরিবারের এক সদস্য এপিকে জানান, মা-বাবা তাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলার কয়েক সপ্তাহ পর ৪৪ বছর বয়সী অ্যালান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তি রবিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালান। নিহতদের মধ্যে স্মিথের বাবা-মা রয়েছেন। নিহতরা একই পরিবারের চার প্রজন্মের সদস্য। তাদের বয়স ৯০-এর কোঠার এক প্রবীণ নারী থেকে শুরু করে ৭ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী ও পরিবারের বন্ধু জেনিফার মার্সার।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গুলির শব্দ শুনতে পান, যার পরপরই পুরো বাড়িটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, অভিযুক্ত হামলাকারী নিজে গুলিবর্ষণে নিহত হয়েছেন। আগুনে বাড়িটি পুরো পুড়ে যাওয়ায় তদন্তের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

স্বজনদের সূত্রমতে, নিহতরা হলেন- অ্যালান স্মিথের বোন মেগান গ্যাকিয়ের, তার দুই সন্তান ওয়েন আয়ারল্যান্ড (১৩) ও ক্লো আয়ারল্যান্ড (৭), মেগানের বর্তমান স্বামীর আগের পক্ষের দুই সন্তান ল্যান্ডন গ্যাকিয়ের (১৫) ও শার্লট গ্যাকিয়ের (১২)। এছাড়া অ্যালানের মা-বাবা ডানা ও বার্ব স্মিথ এবং তার ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা ঠাকুরমা ইভলিন স্মিথও এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ১২ বছর বয়সী শিশু শার্লট গ্যাকিয়ের সাহসিকতার সাথে ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনার কথা জানায় ও পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

হত্যাকাণ্ড চালানো অ্যালান স্মিথ সম্পর্কে তার সাবেক ভগ্নিপতি ব্র্যাড আয়ারল্যান্ড জানান, অ্যালান মূলত একজন ‘একাকী ও অসামাজিক’ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। সারাদিন তিনি নিজের ঘরে কম্পিউটারে কাটাতেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকলেও তিনি মানসিকভাবে কিছুটা উগ্র ছিলেন।

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ডাটাবেজ অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ২২তম গণহত্যার ঘটনা। এর মধ্যে ১৫টিই ঘটেছে পারিবারিক বিরোধের জেরে। গত এপ্রিলের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা।