ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা প্রথমে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং পরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করতে পারেন বলে জানা গেছে।
রুশ ও ইউক্রেনীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তাদের সফর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সময়সূচি প্রকাশ করেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফরের সম্ভাব্য তারিখের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মস্কো ও কিয়েভ—দুই জায়গাতেই মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ফলে কয়েক মাসের স্থবিরতার পর নতুন করে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইটকফ ও কুশনার ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছিলেন। তবে এবারের আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন দূতদের সম্ভাব্য সফরের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। উইটকফ ও কুশনার রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এর আগেও একাধিকবার বৈঠক করলেও কিয়েভ সফর করেননি। এবার মস্কোর পর কিয়েভ সফর করলে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
জেলেনস্কি এর আগে মার্কিন প্রতিনিধিদের রাশিয়া সফরের বিষয়টি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে পুতিনও উইটকফ ও কুশনারকে আলোচনার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসঙ্গী হিসেবে দেখিয়েছেন।
নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষের ভূখণ্ডের গভীর এলাকাতেও হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের চেষ্টা নতুন করে জোরদার করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে উইটকফ ও কুশনারের এবারের মস্কো ও কিয়েভ সফরে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হবে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তারা যাচ্ছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য সফর নিশ্চিত হলে এটি ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হতে পারে।
সূত্র: আরটি